তেলেঙ্গানা নিয়ে আন্দোলন আরও তীব্রতর হচ্ছে

Update: October 15, 2011 10:44 IST

হায়দরাবাদ সহ তেলেঙ্গানা অঞ্চলের দশ জেলাজুড়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে রেল রোকো। তার সঙ্গে সরকারি কর্মচারী, পরিবহণ কর্মী, খনি শ্রমিক, শিক্ষক ও ছাত্রদের লাগাতার ধর্মঘট আজ বত্রিশ দিনে পড়েছে। পৃথক রাজ্যের দাবিতে টানা আন্দোলনে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। অবস্থা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে সেটা বুঝতে পেরেই আগাম সতর্কতা হিসেবে টিআরএস প্রধান চন্দ্রশেখর রাওয়ের পুত্র কে টি রামা রাও ও কন্যা কবিতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। আটক করা হয়েছে বহু টিআরএস এবং কংগ্রেস নেতা কর্মীকেও। পৃথক তেলেঙ্গানার ঘোষণা শেষ মুহূর্তে আটকে রয়েছে। আর একথা বুঝতে পেরেই পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের মাত্রা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে টিআরএস-এর নেতৃত্বে তেলেঙাগানা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। গত একমাস ধরে চলছে বাস ধর্মঘট। সামিল হয়েছেন সত্তর হাজার কর্মী। তার ওপর শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রেল রোকো। হায়দরাবাদ-সহ তেলেঙানা অঞ্চলের দশটি জেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে রেল পরিষেবা। বাতিল করা হয়েছে একশো চব্বিশটি ট্রেন।একদিকে লাগাতার ধর্মঘট। তার ওপর রেল রোকো। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে আঁচ করে টিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের পুত্র কে টি রামা রাও ও কন্যা কে কভিতা-সহ বেশ কয়েকজন নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটকারীদের পুলিস ধরপাকড় শুরু করে দিলেও এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য যতক্ষণ পর্যন্ত না পৃথক রাজ্যের ঘোষণা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থা স্বাভাবিক হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর পৃথক তেলেঙ্গানা প্রায় নিশ্চিত হলেও মূলত দুটি কারণে আটকে রয়েছে আলাদা রাজ্যের ঘোষণা। কেন্দ্রের আশঙ্কা তেলেঙ্গানা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন মাথাচাড়া দেবে। দ্বিতীয় সমস্যা, রাজধানী শহর হায়দরাবাদ। তেলেঙ্গানাপন্থীদের দাবি, উনিশশো ছাপ্পান্ন সালের আগে যখন দুটি রাজ্য আলাদা ছিল তখন হায়দারাবাদ তেলেঙ্গানার সঙ্গেই ছিল। তাই হায়দরাবাদ ছাড়া পৃথক তেলেঙ্গানা তারা গ্রহণ করবেন না। অন্যদিকে, সীমা এবং উপকূলবর্তী অন্ধ্র, রাজধানী হায়দরাবাদকে ছাড়তে নারাজ। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।