বয়স ১৯, কিন্তু এখনও ছোট্ট মেয়ে আজিফা ঘোরেন মা কোলেই

আজিফা খাতুন। বয়স ১৯। কিন্তু এখনও মায়ের কোলে চড়েই ঘুরে বেরাতে হয় তাঁকে। কারণ বয়স বাড়লেও এখনও যে দুবছরের ছোট্ট মেয়েটিই রয়ে গেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মিরপুরের বাসিন্দা আজিফা সারাদিন বাচ্চাদের সঙ্গে খেলেই কাটান।

Updated: Jan 30, 2014, 11:45 PM IST

আজিফা খাতুন। বয়স ১৯। কিন্তু এখনও মায়ের কোলে চড়েই ঘুরে বেরাতে হয় তাঁকে। কারণ বয়স বাড়লেও এখনও যে দুবছরের ছোট্ট মেয়েটিই রয়ে গেচেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মিরপুরের বাসিন্দা আজিফা সারাদিন বাচ্চাদের সঙ্গে খেলেই কাটান।

প্রথম দেখায় আজিফাকে মনে হবে ভাইবোনদের সঙ্গে খেলা করা, খুনসুটি করা দুবছরের ছোট্ট মেয়ে। তবে শুরুটা এরকম একেবারেই ছিল না। ১৯৯৪ সালে সম্পূর্ণ সুস্থা সন্তানের জন্ম দেন আজিফার মা আপিলা খাতুন, ৪২। জন্মের পর থেকে বছর দুই ঠিকঠাকই বাড়ছিলেন আজিফা। ঠিক সময় হাঁটাচলাও শুরু করেন ছোট্ট আজিফা। তারপরই হঠাত্ থেমে যায় বৃদ্ধি। এখনও তাঁকে চামচে করে খাইয়ে দিতে হয়। প্রথম দিকে চিকিত্সকরা বলেছিলেন কিছুদিন থেমে আবার বেড়ে উঠবেন আজিফা। কিন্তু ১৭ বছর কেটে গেলেও একই রকম রয়ে গেছেন আজিফা।

জিনগত হরমোন সমস্যার জন্যই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন চিকিত্সকরা। বিজ্ঞানীদের ধারনা আজিফা ল্যারোন সিনড্রোমে আক্রান্ত। পৃথিবীর মাত্র ৩০০ জন মানুষের এই সমস্যা রয়েছে। ইকুয়েডরের লোজা প্রদেশে প্রতি তিনজনে একজন এই সিনড্রোমে আক্রান্ত। এদের শরীরে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন জাতীয় হরমোন না থাকায় এই ধরনের অবস্থা তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এই হরমোন বেশি মাত্রায় থাকলে খুব অল্প বয়সে স্তনের বৃদ্ধি, প্রস্টেট বা বাওয়েল ক্যান্সারের সম্ভাবনাও থাকে।

আজিফার ভাইবোনেরা রিনি(১৭), রাবিয়া(১৪), দানিশ(৮) সকলেই এখন আজিফার থেকে অনেক লম্বা। আজিফা যদিও মা, বাবা ও দিদি ছাড়া কিছুই বলতে পারেন না। আজিফার মতোই অবস্থা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুক গ্রিনবার্গেরও। গত বছর অক্টোবর মাসে ২০ বছর বয়সে মারা যান ব্রুক।