অবশেষে মুক্ত অ্যালেক্স পল মেনন

Update: May 3, 2012 10:22 IST

টানা ১২ দিন পর অবশেষে সুকমার জেলাশাসক অ্যালেক্স পল মেননকে মুক্তি দিল মাওবাদীরা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে জেলাশাসককে মুক্তি দেয় মাওবাদীরা। চিন্তালনাড়ে তালমেটরার জঙ্গলে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে ২ মধ্যস্থতাকারী বিডি শর্মা ও জি হরগোপালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে জেলাশাসককে। আগামী আধ ঘণ্টার মধ্যেই মেনন সুকমায় নিজের বাংলোয় পৌঁছে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং, প্রশাসনিক আধিকারিক, সংবাদমাধ্যম ও মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে জেলাশাসক বলেন, ''আমি ক্লান্ত, তবে সুস্থ। এবার পরিবারের কাছে ফিরতে চাই।''

গত মঙ্গলবারই মাওবাদীদের তরফে সংবাদমাধ্যমকে এসএমএস করে জানিয়ে দেওয়া হয়, বৃহস্পতিবার তাঁরা অপহৃত জেলাশাসককে মুক্তি দেবে। এসএমএসটি পাঠান, মাওবাদীদের দক্ষিণ বাস্তার ডিভিশনাল কমিটির নেতা বিজয়। বিজয় তাঁর এসএমএস-এ জানান, ''সুকমার জেলাশাসক অ্যালেক্স পল মেনন আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। আমাদের মধ্যস্থতাকারী মিস্টার শর্মা ও হরগোপালজি ছত্তিসগড় সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। চুক্তিটি ছত্তিসগড়ের বিভিন্ন জেলে বন্দি মাওবাদীদের মুক্তি সংক্রান্ত। মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন, তার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা জেলাশাসককে ছাড়তে প্রস্তুত। ৩ মে তারমেটলার জঙ্গলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আমরা মধ্যস্থতাকারীদের হাতে জেলাশাসকে তুলে দেব।'' অ্যালেক্সের মুক্তির খবর শুনে মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৫ নাগাদ `২৪ ঘণ্টা`কে দেওয়া প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান জেলাশাসকেক ভাই আনন্দ মেনন। অ্যালেক্সের পরিবার জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে তাঁরা খুবই উচ্ছ্বসিত। তবে ৩ মে কখন তাঁরা জেলাশাসককে মুক্তি দেবেন সে বিষয়ে মাওবাদীদের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

জেলাশাসকের মুক্তি নিয়ে সরকার ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে সোমবার রাতে এক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার পরই অপহৃত জেলাশাসকের মুক্তির সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হয়। বিশেষ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গোটা পরিস্থিতি এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয় ছত্তিসগড় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও।

গত শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মাঝিপাড়া গ্রামে একটি পঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলাসদরে ফেরার সুকমার জেলাশাসক অ্যালেক্স পল মেননকে অপহরণ করে মাওবাদীরা। সুকমার কাছে গাদিরাশ ও কেরলাপালের মাঝে অ্যালেক্সের কনভয়ে হামলা চালায় ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সশস্ত্র মাওবাদী। প্রত্যেকেই মোটরবাইকে চেপে এসেছিল। নিরাপত্তারক্ষীরা তত্‍পর হলেই গুলি চালাতে শুরু করে তারা। মাওবাদীদের গুলিতে মৃত্যু হয় ২ নিরাপত্তারক্ষীর।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।