সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স দালাল রাজ, ধরা পড়ল ২৪ ঘণ্টার ক্যামেরায়

সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স দালাল রাজ, ধরা পড়ল ২৪ ঘণ্টার ক্যামেরায়

সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স দালাল রাজ, ধরা পড়ল ২৪ ঘণ্টার ক্যামেরায় সরকারি হাসপাতালের অন্দরেই চলছে অভিনব দালাল-রাজ। সরকারি হাসপাতালেই হাজির বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমের অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টরা। অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আড়ালে রমরমিয়ে চলছে রোগী ধরার কারবার! নার্সিংহোমে রোগী পৌঁছে দিতে পারলেই মিলছে মোটা অঙ্কের কমিশন। অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টদের জন্য নার্সিংহোমগুলি  তৈরি করেছে নির্দিষ্ট কর্পোরেট রেট চার্ট। ২৪ ঘণ্টার ক্যামেরায় ধরা পড়ল সেই ছবি।

ছোট বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলির মূল টার্গেট কলকাতার সবকটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ। রোগী টানতে অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টদের কাজে লাগাচ্ছে এরা। বার্ষিক বাজেটের একটা বড় অংশ বরাদ্দ থাকছে অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টদের কমিশনের জন্য। কাস্টমারের খোঁজে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে সরকারি হাসপাতালের অন্দরে। অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আড়ালে রমরমিয়ে চলছে রোগী ধরার কারবার। নার্সিংহোমে রোগী পৌঁছে দিতে পারলেই মিলছে মোটা অঙ্কের কমিশন। অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টদের জন্য নার্সিংহোমগুলি  তৈরি করেছে নির্দিষ্ট কর্পোরেট কমিশন রেট-চার্ট। বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমে রোগী আনতে পারলেই হাতে হাতে কমিশন। অ্যাম্বুলেন্স চালক পরিচয়ে ২৪ ঘণ্টা প্রথমে হাজির হয়েছিল মৌলালির একটি নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের কর্তা রঞ্জন মিত্রের সঙ্গে কথা বলতে। তিনি না থাকায় ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধিকে নিজের ক্লিনিকে ডেকে নেন নার্সিংহোমের চিকিত্সক এস এস গুপ্তা। ২৪ ঘণ্টার পরের গন্তব্য ছিল পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। অ্যাম্বুলেন্স এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে চাওয়ার শুনেই কথা বলতে রাজি হয়ে গেলেন হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের কর্তা দিলীপ ভক্ত।

কী কায়দায় সরকারি হাসপাতাল থেকে নার্সিংহোমে রোগী টেনে আনতে হবে সবিস্তারে তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি। রোগী আনলেই হাজার টাকা অগ্রিম অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টদের জন্য। পরে মিলবে মোট বিলের পঁচিশ থেকে তিরিশ শতাংশ ফ্লেক্সিবল কমিশন। তবে শর্ত একটাই। রোগীর চিকিত্সার বিল হতে হবে ৫০ হাজার টাকার বেশি। বিল ৫০ হাজারের কম হলে কমিশন মিলবে ফিক্সড রেটে। মেডিসিন কেসে ফিক্সড কমিশন ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। তবে সার্জারি কেসে ফিক্সড কমিশন ১৬-১৮ হাজার টাকা।

এসএসকেএম, ক্যালকাটা মেডিক্যাল, এনআরএস, আরজি কর, ন্যাশনাল মেডিক্যাল। সর্বত্রই অ্যাম্বুলেন্স এজেন্টদের রমরমা। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স এজেন্ট হিসাবে কাজ করেন মুলত স্থানীয় যুবকরাই। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার মূল পাণ্ডা তিনজন। সাহেব, সঞ্জু এবং বিজয় নামে তিন যুবক। সরকারি নজরদারি না থাকায় অবাধেই চলছে অ্যাম্বুলেন্স এজেন্ট রাজ। এর জন্য পরিকাঠামোর সমস্যাকে দায়ী করে দায় এড়াচ্ছে সরকারি হসাপাতাল কর্তৃপক্ষ।
 

First Published: Sunday, November 04, 2012, 15:59


comments powered by Disqus