আন্দোলনের নীল নকশা নিয়ে ময়দানে আন্না

Update: October 1, 2012 18:49 IST

একদা ঘনিষ্ঠ সহযোগী অরবিন্দ কেজরিয়ালদের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরের দিনই নতুন রণ নীতি ঘোষণা করে ফেললেন আন্না হাজারে। সোমবার তাঁর দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের ভবিষ্যতের নীল নকশা প্রকাশ করলেন বর্ষীয়ান এই সমাজ কর্মী।

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে আন্না জানিয়েছেন ইতমধ্যে বেশ কয়েক জন অবসর প্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক এবং সরকারি কর্মী তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের অংশীদার হতে চান। তবে তিনি এও জানিয়েছেন শুধুমাত্র দুর্নীতি মুক্ত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির লোকেরাই তাঁর আন্দোলনের অংশীদার হতে পারবেন। যাঁরা নির্বাচিত হবেন তাঁদেরকে তিন-চার দিনের একটি প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আন্না জানিয়েছেন `` এই প্রশিক্ষণ দলের মধ্যে একতা বজায় রাখার জন্য অতন্ত্য জরুরী। বৃহত্তর লক্ষ্যে দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য নিজেদের মধ্যে একতা প্রয়োজনীয়।`` এরপর তাঁদের স্বেচ্ছাসেবীরা নভেম্বর মাস থেকে সারা ভারত ঘুরে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের প্রচার করবেন। অরবিন্দ কেজরিয়াল গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘোষিত বিচ্ছেদের পরে এদিনও আন্না রাজনৈতিক দল গঠনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন `` এই আন্দোলনের জন্য রাজনীতি সঠিক পথ নয়``। তবে একদা তাঁর ডানহাত কেজরিয়ালের প্রতি কিছুটা সুর নরম করেছেন ৭৫ বছরের এই সমাজকর্মী। বলেছেন কেজরিয়াল নিজে যদি ভোটে দাঁড়ান তাহলে তাঁকে অবশ্যই সমর্থন করবেন তিনি। তবে তাঁর সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন তাঁর কোন ছবি বা নাম কেজরিয়ালরা ভোটের প্রচারের জন্য ব্যভার করতে পারবেন না।

অন্যদিকে আবারও কেজরিয়াল গোষ্ঠীর ত্তরফ থেকে জানানো হয়েছে রাজনীতিতে যোগদান কোন ভাবেই দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের গতি রোধ করবেনা। আগামী ২রা অক্টোবর নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।




Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।