দুর্নীতির তদন্ত, টিম আন্নার নিশানায় মনমোহন-সহ ১৫ মন্ত্রী

Update: May 26, 2012 18:56 IST

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম-সহ ইউপিএ-র ১৫ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলল টিম আন্না। আজ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের নেতৃত্বে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে টিম আন্নার সদস্যরা এই প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ১৪ জন ক্যাবিনেট-সতীর্থের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তোলেন। এ বিষয়ে তাঁরা একটি দাবিপত্র পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে। সেই আবেদনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আবেদনে ৬ জন বিচারপতির নাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার তাঁদের পছন্দের ৩ জন বিচারপতিকে তদন্তকারী দলে রাখতে পারেন বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।

২০০৬-০৯ কয়লামন্ত্রকের দায়িত্ব ছিল প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং`য়ের হাতে। সে সময় কয়লা ব্লকগুলির উত্তোলনের বরাতে অনিয়মের অভিযোগে ৭ রেসকোর্স রোডের বাসিন্দার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রালেগাঁও সিদ্ধির প্রবীণ সমাজকর্মী এবং তাঁর অনুগামীরা। পি চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পদে থাকার সময় নিয়ম বহির্ভূত স্পেকট্রাম বণ্টনে মদত দেওয়ার অভিযোগ। অন্যদিকে প্রথম ইউপিএ সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জমানায় ভাহরতীয় নৌবাহিনীর জন্য `স্করপিয়ন` ডুবোজাহাজ কেনার বরাত দেওয়ার সময় বিধি বহির্ভূতভাবে ৪ শতাংশ কমিশন দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়ে প্রশান্ত ভূষণের দাবি, এ ব্যাপারে প্রামাণ্য নথিপত্র রয়েছে তাঁদের কাছে।

টিম আন্নার নিশানায় থাকা অন্যান্য মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, শরদ পাওয়ার(কৃষি), বিলাসরাও দেশমুখ(বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), এস এম কৃষ্ণ(বিদেশ), কমলনাথ(নগরোন্নয়ন), প্রফুল পটেল(ভারী শিল্প), কপিল সিবাল(তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলি যোগাযোগ), সলমন খুরশিদ(আইন), জি কে ভাসন (জাহাজ), ফারুক আবদুল্লা (পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি), এম কে আলাগিরি (সার ও রসায়ন), সুশীলকুমার শিন্ডে(বিদ্যুত্‍) এবং বীরভদ্র সিং(ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্প)।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।