বাগানের নির্বাসনে হতাশায় ডুবে ব্যারেটো, টোলগে

Update: January 1, 2013 19:53 IST

একজন অতীত আর একজন বর্তমান। মোহনবাগানের নির্বাসনের পর ক্লাবের অতীত আর বর্তমান একই দুনিয়ায় বাস করছে। তা হল হতাশা। গোটা বিশ্ব, গোটা দেশ, গোটা রাজ্য যখন বর্ষবরণের আলোয় ভেসেছে, তখন মোহনবাগানের পৃথিবীতে শুধুই অন্ধকার। আর এই অন্ধকারের দুনিয়ায় ডুবে টোলগে, ব্যারেটোর।

আই লিগ থেকে মোহনবাগানের নির্বাসনের খবর শোনার পর থেকে হতাশায় ডুবে অসি গোলমেশিন টোলগে ওজবে। ক্লাবের অনুশীলন বন্ধ। বর্ষবরণের উত্‍সবে যখন মত্ত গোটা শহর,তখন নিজেকে বিলাসবহুল ফ্লাটের মধ্যে আটকে রেখেছেন তিনি। ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও,টোলগে বলছেন ক্লাবের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেশন যেন ফুটবলারদের দিকটিও বিবেচনা করে।

সবে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন। নতুন বছরের শুরু থেকেই আই লিগের ম্যাচে দলের হয়ে মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠছে না। তবে টোলগের আশা নতুন বছরে সব কিছুই আবার আগের মত হয়ে যাবে।মোহনবাগানকে আবার আই লিগে খেলতে দেখা যাবে।

উত্‍সবের মধ্যেও এবছর মনটা একেবারেই ভাল নেই ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার হোসে রামিরেজ ব্যারেটোর। শনিবার বাড়িতে বসেই শুনেছেন প্রিয় ক্লাবের আই লিগ থেকে সাসপেনসনের খবর। মোহনবাগান সভ্য-সমর্থকদের চোখের জল আর হতাশা ছুঁয়ে যাচ্ছে সবুজ তোতার হৃদয়কেও। তবে ব্যারেটো সবচেয়ে বেশি ব্যতীত ওডাফা-টোলগেদের জন্য। ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার বলছেন,একজন পেশাদার ফুটবলার হিসাবে তিনি ভালমতই বুঝছেন মরসুমের মাঝে এই ধরনের খবরের পর মোহনবাগান ফুটবলারদের উপর দিয়ে কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
 
ডার্বি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দল না নামানোর জন্য কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে মোহনবাগানকে। যা নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কর্তাদের। যদিও ব্যারেটো বলছেন,সব দোষ মোহনবাগানকে দেওয়া উচিত হয়নি। সমর্থকদের মতই ব্যারেটোর আশা,খারাপ সময় কাটিয়ে উঠবে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটি। আবার সবুজ বাগানে ফুল ফুটবে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।