এক মঞ্চে, তবু বরফ গলল না বেচারাম-রবীন্দ্রনাথের

Update: March 14, 2013 09:51 IST

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরে একই মঞ্চে দেখা গেল রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং বেচারাম মান্নাকে।  কয়েক হাত তফাতেই বসলেন দুজন। কিন্তু ঘুচল না দূরত্ব। সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত থাকলেও কোনও কথা হয়নি দুজনের। বরং বক্তব্য রাখতে উঠে প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রীকে রীতিমতো কটাক্ষই করেছেন বর্তমান কৃষি প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না। জবাবে অবশ্য মুখ না খুলে বিতর্ক এড়িয়েছেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। 

এই দুই তৃণমূল নেতার বিরোধের শুরু বেশ কয়েকমাস আগে। বিদ্রোহী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সরব হন, নবনিযুক্ত মন্ত্রী বেচারাম মান্না। এরপর আর একসময়ের গুরুশিষ্যের সম্পর্ক জোড়া লাগেনি। তারপর কেটে যায় বেশ কয়েকটি মাস। সম্প্রতি, রবীন্দ্রনাথ বাবুর তরফে খানিকটা সুর নরমের ইঙ্গিত মেলে। দলীয় কর্মকাণ্ডে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। তারপরেই দলের একাংশের তরফে দুজনের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা হয়। গত ১০ মার্চ সিঙ্গুরেই একটি অনুষ্ঠানে দুজনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ বাবু গেলেও, যাননি বেচারাম মান্না।

বুধবার অবশ্য সরকারি একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেল দুজনকেই। একমঞ্চে বসলেও দুজনের মধ্যে অবশ্য কোনও কথা হয়নি। বরং বক্তব্য রাখতে উঠে বেচারাম মান্নার গলায় ধরা পড়ল মাস্টারমশাইয়ের প্রতি তীব্র কটাক্ষ।  

কৃষি প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ করেই। মাসকয়েক আগে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন তাঁর আদর্শ বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিত্বরা। যদিও বেচারাম মান্নার এদিনের মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলতে চাননি তিনি।

সামনে পঞ্চায়েত ভোট। সেদিকে তাকিয়ে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য-বেচারাম মান্না দ্বৈরথে সম্ভবত দাঁড়ি টানতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু, আদৌ কি তা সম্ভব হবে? বুধবারের সভা অন্তত সেরকম কোনও ইঙ্গিত দিল না। 

Post Your Comment

Total Comments:2

দিদির দয়ায় বেচারামের পদোন্নতি হয়েছে। এ ভট্টাচার্য রবীন্দ্র নাথ অচল। ব্যাচরা বেচা-রাম নিজেই এখন আস্ত রবীন্দ্র নাথ।

Becharam Ekta Charal. Sala aage koler mistry chilo.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।