সাংমাকেই সমর্থন বিজেপির, প্রণবের পাশে শরদ

Update: June 21, 2012 13:33 IST

এনডিএ`র শরিকদল শিবসেনা এবং জনতা দল(ইউনাইটেড)-এর তরফে রাষ্ট্রপতি পদে ইউপিএ-র প্রার্থী প্রণব মুখার্জিকে সমর্থনের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু `বিরোধী রাজনীতির দায়বদ্ধতা পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ` বিজেপি নেতৃত্ব সে পথে হাঁটলেন না। বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা সুষমা স্বরাজের নেতৃত্বে বিজেপি-র সাংবাদিক বৈঠকে জানান হল, পূর্ণ অ্যাজিটক সাংমাকেই রাষ্ট্রপতি ভোটে সমর্থন জানাবেন তাঁরা। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাংমাকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই এদিন এনডিএ-র আহ্বায়ক তথা জনতা দল(ইউনাইটেড) সভাপতি শরদ যাদব আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রণব মুখার্জিকেই ভোটে দেবেন তাঁদের দলের সাংসদ বিধায়করা।

শিবসেনা, জেডি(ইউ)-কে সঙ্গে না পেলেও সুষমার দাবি, এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ শরিক শিরোমনি অকালি দল সাংমাকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। বিজেপি`র এই সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত রাইসিনার রাস্তা নিষ্কন্টক হচ্ছে না কীর্ণাহারের ব্রাহ্মণ নেতার। ভোটের লড়াইয়ে নামতেই হচ্ছে তাঁকে। পি এ সাংমাকে প্রার্থী করা নিয়ে চূড়ান্ত মতভেদ রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র মধ্যে। এমনকী বিজেপি নেতৃত্বের একাংশও নিশ্চিত হারা লড়াইয়ে সামিল হওয়ার বিষয়ে আগাগোড়াই অনাগ্রহী সছিলেন। কিন্তু তা স্বত্বেও দুই প্রাক্তন জোটসঙ্গী বিজু জনতা দল এবং এআইএডিএমকে-কে নিয়ে ভবিষ্যতের সমীকরণ তৈরির লক্ষ্যেই বিজেপি নেতৃত্ব পি এ সাংমাকে রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থন জানাল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

কারণ? নবীন পট্টনায়ক ও জয়ারাম জয়ললিতা ইতিমধ্যেই রাইসিনার রেসে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ইউপিএ জোটের ক্ষুব্ধ নেত্রীদেরও পাশে পাওয়ার আশাও ১১ অশোক রোডের নীতি নির্ধারকদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পিছনে অনুঘটকের কাজ করেছে। এদিন সাংমার নামে দলীয় অনুমোদনে সিলমোহর দেওয়ার কথা জানিয়ে বিজেপি রাজ্যসভার নেতা অরুণ জেটলি বলেন, "আমরা আশা করব এনডিএ-র সমস্ত শরিক দল তাঁকে সমর্থন জানাবেন"। তাঁর অভিযোগ, প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি পদে একতরফাভাবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করায় তাঁদের সামনে সাংমাকে সমর্থন জানান ছাড়া বিকল্প কোনও পথ খোলা ছিল না। অন্যদিকে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের সাম্প্রতিক কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করলেও শরদ যাদব জানিয়েছেন, `যোগ্যতম প্রার্থী` বলেই প্রণব মুখার্জিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিজেপি`র সঙ্গে তাঁদের এই মতপার্থক্যের কোনও নেতিবাচক প্রভাব এনডিএ জোটে পড়বে না বলেও দাবি করেছেন জেডি(ইউ) সভাপতি।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।