অষ্টমীতেই বিজয়া সম্পন্ন যশ চোপরার

Last Updated: Sunday, October 21, 2012 - 19:49

চিত্র নির্মাতা যশ চোপরার শেষকৃত্য সম্পন্ন হল মুম্বইয়ের ভিলে পার্লের মহাশ্মশানে। দুপুর আড়াইটে যশরাজ স্টুডিও থেকে যশ চোপরার মরদেহ নিয়ে শেষযাত্রা শুরু হয়। শেষ যাত্রায় সামিল ছিলেন শাহরুখ খান, আমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বর্য রাই, আদনান সামি, মুকেশ ভট, প্রীতি জিন্টা সহ বলিউডের বহু তারকা। গতকাল বিকেলে মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে মারা যান তিনি।
গত ১৩ অগাস্ট তাঁর ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন যশ চোপরা। গতকাল, রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মৃত্যু হয় তাঁর। রাতে লীলাবতী হাসপাতালে থেকে যশ চোপরার দেহ তাঁর জুহুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সকলের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ সকাল থেকে দেহ শায়িত রয়েছে যশরাজ স্টুডিওর তিন নম্বর স্টেজে। বলিউডের ফিল্ম জগতের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সমস্ত মানুষই যশ চোপড়াকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যশরাজ স্টুডিওয় গিয়েছেন।
ভারতীয় সিনেমায় একটা যুগের অবসান হল। বলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক যশ চোপড়া প্রয়াত হলেন। রবিবার মুম্বইয়ের লীলাবতি হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বলিউডে রোমান্টিক সিনেমার রূপকার এই চিত্র পরিচালক। গত রবিরার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এই বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক, সেরেও উঠছিলেন। কিন্তু এদিন দুপুরে হঠাত্‍ই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষ অবধি ডেঙ্গুর কবলে পড়েই প্রাণ হারালেন যশ।
গোটা বলিউড তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত। অমিতাভ থেকে শাহরুখ। সলমন থেকে আমীর সবাই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। টুইটার থেকে ফেসবুকেও যশ চোপড়ার মৃত্যুতে গোটা ভারতের হতাশা আর শোকের ছবিটা ধরা পড়ছে। কমাস পরেই তার পরিচালনায় `জব তক হে জান` ছবি মুক্তির কথা। যশ আগেই বলেছিলেন এটাই তাঁর পরিচালিত শেষ ছবি। কিন্তু মুক্তির আগেই স্রষ্ট্রা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। তবে তাঁর শেষ ছবির মতই যশ কথা রাখলেন মানে `জব তক হে জান` তিনি বলিউডের জন্য নিজের সবকিছু দিয়ে গেলেন।
বলিউডকে বিশ্ব চেনে সিনেমায় গান, রোমান্স আর ডায়লগের জন্য। আর এই তিনটেই ছিল যশ চোপড়ার সিনেমার সেরা বৈশিষ্ট্য। তাঁর ছবি তৈরির ধরণ তাঁকে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। বলিউডের মোট ২২টি সিনেমায় পরিচালনা করেন যশ। তাঁর মধ্যে যেমন রয়েছে আদমি অউর ইনসান (১৯৬৯), দাগ (১৯৭৩), বিজয় (১৯৮৮)-এর মত চলচ্চিত্রমহলে প্রশংসা পাওয়া ছবি। তেমনই রয়েছে , দিবার (১৯৭৫), কভি কভি (১৯৭৬) ডর (১৯৯৩), দিল তো পাগল হ্যায় (১৯৯৭), বীর জারা (২০০৪)` মত বক্স অফিসে মেগা হিট সিনেমা। রাজেন্দ্র কুমার থেকে অমিতাভ বচ্চন, কিংবা তারপর শাহরুখ খান।
তাঁর দাদা বি আর চোপড়ার ব্যানারে কাজ করার পর ১৯৭৬ সালে তিনি নিজের নামে `যশরাজ ফিল্মস` নামের ছবি প্রযোজনা সংস্থা খোলেন। সেই যশরাজ ফিল্মস আজ বলিউডের সেরা প্রযোজনা সংস্থা। চলচ্চিত্র নির্মাণের বিচারে ভারতে প্রথম ও বিশ্বে ২৭তম অবস্থানে রয়েছে যশরাজ ফিল্মস। বানিজ্যিক দিক থেকে সবচেয়ে সফলও বটে। `যশরাজ ফিল্মস`-এর ব্যানারে ৬০টির বেশি সিনেমা প্রযোজিত হয়েছে। তাঁর মধ্যে রয়েছে তাঁর ছেলের পরিচালিত `দিলওয়ালে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে`, `চক দে ইন্ডিয়া`,`ধুম`, কিংবা হালের সুপারহিট `এক থা টাইগারের` মত সফল ছবি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভূষিত হয়েছেন ভারতের সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পদ্মভূষণে। পেয়েছেন দাদা সাহেব ফালকে সম্মাননাও। এ ছাড়া ফ্রান্সের সেরা বেসামরিক পুরস্কার ‘লিজিয়ন অব অনার’এ ভূষিত হয়েছেন যশ চোপড়া। প্রথম ভারতীয় হিসেবে বাফটার আজীবন সদস্যপদ লাভ করেন তিনি।
যশ চোপড়া বলিউডকে শুধু মনে রাখার মত সিনেমাই উপহার দেননি, সেই সঙ্গে জন্ম দিয়েছেন মহাতারকার। গোটা দেশ আজ যাদের জন্য পাগল, ক্যামেরার পিছন থেকে তাদেরই অভিভাবকের মত পরিচালনা করে গেছেন যশ। তাই অমিতাভ-শাহরুখের বিভিন্ন বিষয়ে যতই দ্বন্দ্ব থাকুক, একটা বিষয়ে দু`জনেই একমত। বিগ বি-কিং খান দুজনেই স্বীকার করেন যশ চোপড়ার ছবিতে কাজ করতে তাদের সবচেয়ে ভাল লাগে। আসলে শাহরুখ তাঁকে নিয়ে একটা কথা ঠিকই বলেছিলেন , "বাকিদের ছবিটা তৈরি হয় ক্যামেরা, সাউন্ড, লাইট আর ক্যাসেট দিয়ে আর যশের ছবিগুলো হয় হৃদয় দিয়ে তাই কভি কভি উনকা ফিল্ম দেখকে দিল তো পাগল হোতা হ্যায়।" শাহরুখ খান ও ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে তৈরি সেই ‘জব তক হ্যায় জান’ মুক্তি পাচ্ছে ১৩ নভেম্বর ৷ লাহোরে এক পাঞ্জাবি পরিবারের সন্তান ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিলেন। হলেন বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা পরিচালকদের একজন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ তাঁর শোকবার্তায় বলেছেন, "উনি এমন সব ছবি বানিয়েছেন যেগুলি জীবনের চেয়েও যেন বড়। রোমান্স ও সামাজিক ড্রামাকে চমত্‍কার মেলাতে পারতেন। একজন আইকন চলে গেলেন যিনি অনেকগুলি প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।"



First Published: Monday, October 22, 2012 - 18:50


comments powered by Disqus