রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ডাক বুদ্ধদেবের

Update: November 25, 2012 10:42 IST

পঞ্চয়েত নির্বাচনে মানুষের রায় বানচাল করার চেষ্টা চালাবে রাজ্য সরকার এবং শাসক দল। শনিবার দমদমে দলের এক কর্মিসভায় একথা বলেন সিপিআইএম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পঞ্চায়েতের লড়াইয়ে দুলীয় কর্মীদের এক ইঞ্চি জমিও না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের লক্ষ্যে সর্বাত্মকভাবে  নেমে পড়ার পরিকল্পনা করেছে সিপিআইএম। শনিবার দলীয় কর্মীদের এক সভায় সেই ইঙ্গিত দিলেন সিপিআইএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। গ্রামে গ্রামে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা আলিমুদ্দিনের মাথাব্যথার কারণ হলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে তাঁরা শাসক দলকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না, দলীয় কর্মীদের সে কথায় বলেন তিনি। এমনকি মানুষকে পাশে নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধেরও ডাক দেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবস্থাকেও যে বামেরা বড় ইস্যু করবে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কথাতে তা স্পষ্ট। শনিবারের কর্মীসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যে কায়দায় চলছেন, তাতে এ রাজ্যে বিজেপির জমি শক্ত হচ্ছে।

গ্রামের নির্বাচনে মানুষের রায় নিজেদের পক্ষে টানতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা করে ফেলেছে সিপিআইএম। সকলের জন্য ২ টাকা কেজি দরে চাল এবং গমের দাবিতে সই সংগ্রহ করবেন তাঁরা। সরব হবেন কৃষক আত্মহত্যা নিয়েও। মানুষের মতামত জানতে একটি বিশেষ ফর্মও ছাপানো হয়েছে। ওই ফর্ম নিয়ে দলীয় কর্মীরা রাজ্যের এক কোটি মানুষের বাড়িতে যাবেন তিনি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।