রাজের ফতোয়ার মুখে এবার হিন্দি খবরের চ্যানেল

Update: September 2, 2012 17:54 IST

মহারাষ্ট্র রাজনীতির বিতর্কিত চরিত্র রাজ ঠাকরের কোপের মুখে এবার পড়তে চলেছে হিন্দি খবরের চ্যানেল। হিন্দি খবরের চ্যানেলগুলিকে একহাত নিয়ে এমএনএস প্রধান রাজ বলেছেন, " ওরা ইস্যু না বুঝেই খবরকে নিয়ে যা খুশি করে। এসব ওরা না থামালে আমরাই ওদের খেলা বন্ধ করে দেব।" এরপর রাজ ঠাকরে ঠাট্টার সুরে বলেন, "এই যে আমি এই কথাটা বললাম জানি ওরা সেটাও ব্রেকিং নিউজ হিসাবে দেখাবে।"এরপর খবরের চ্যানেলের সংবাদপাঠকদের নকল করে অদ্ভূতরকম অঙ্গভঙ্গি করেন রাজ। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে রাজের সংক্ষিপ্ত জবাব, " আমি আইন জানি।"

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শনিবার বিহারের একটি আদালতে মহারাষ্ট্র নবনির্মান সেনা সুপ্রিমো রাজ ঠাকরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হল। মামলাটি করেছেন বিহারের মুজজফরপুরের এক আইনজীবী।

গত বৃহস্পতিবার একটি জনসভায় রাজ ঠাকরে মহারাষ্ট্রবাসী বিহারিদের `অনুপ্রবেশকারী` বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দ্বিগবিজয় সিং এমএনএস প্রধান বলেন, ` ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে একমাত্র মৎস্যজীবীরা ছাড়া মহারাষ্ট্রে বসবাসকারী সিংহ ভাগ মানুষই আসলে বহিরাগত। এমনকি ঠাকরে পরিবারের আদিভূমি বিহার। সেখান থেকে মধ্যপ্রদেশ হয়ে মহারাষ্ট্রে আসেন তাঁরা"।শুধুমাত্র বিহারীদের অনুপ্রবেশকারী` বলেই থেমে থাকেননি রাজ। রীতিমত হুমকির সুরে তিনি বলেছেন বিহার প্রশাসন যদি আজাদ ময়দানে বিহারিদের বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তব্যরত পুলিসকর্মীদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেয় তবে মহারাষ্ট্র থেকে বিহারিদের সম্পূর্ণ বিতাড়িত করতেও পিছপা হবেন না তিনি।

বেশ কিছু দিন ধরেই মহারাষ্ট্রের হিন্দিভাষীদের উপর জেহাদ ঘোষণা করেছে রাজের নবনির্মান সেনা। গত ১১ই অগাস্ট মুম্বই এর আজাদ ময়দানে শহীদ বেদিতে বিক্ষোভ চলাকালীন `ভাঙচুরের` অপরাধে এক বিহারি কিশোরকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিস। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে বিহার প্রশাসনের মুখ্য সচিব নবীন কুমার মুম্বই পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লেখেন। আর তাতেই ক্ষেপে ওঠেন এমএনএস প্রধান। বৃহস্পতিবার ঠাকরের মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।