কাল থেকে দিল্লিকাণ্ডের শুনানি ফাস্ট ট্রাক কোর্টে

Update: January 2, 2013 11:06 IST

দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে বাস মালিককে গ্রেফতার করল পুলিস। যে বাসে ওই তরুণীর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়, সেই বাসটির অনুমোদন সংক্রান্ত গণ্ডগোল রয়েছে বলে আগেই জানানো হয়েছিল দিল্লি পুলিসের তরফে। বাসটি স্কুলের কন্ট্র্যাক্ট ক্যারেজ হওয়ায় যাত্রী পরিবহণের নিষেধাজ্ঞা ছিল। অর্থাত্ স্কুলের কাজে ব্যবহারের অনুমোদন ছিল। তবে অনুমোদন ছাড়াই বাসটি যাত্রী পরিবহণের কাজে ব্যবহার করা হত। এর জেরে আগেই বাসমালিক দীনেশ যাদবের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে দিল্লি পুলিস। আজ দীনেশ যাদবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবির দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে ফাস্ট ট্রাক কোর্টের নির্মাণ করলেন। এই প্রসঙ্গে ভারতের প্রধান বিচারপতি জানান, "জেনে খুশি হলাম, ১৬ ডিসেম্বরের ঘটনার পর মানুষ নারীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।" আগামিকাল থেকে সাকেতের আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হবে।

গণধর্ষণের ঘটনায় আজ দিল্লি হাইকোর্টে চার্জশিটের একটি কপি জমা দেয় দিল্লি পুলিস। ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পরেই এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে দিল্লি পুলিসের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল হাইকোর্ট। সে কারণেই আজ হাইকোর্টে চার্জশিট পেশ। মামলার শুনানি যেখানে হবে সেই সাকেত কোর্টে আগামিকাল চার্জশিট পেশ করবে দিল্লি পুলিস।

গণধর্ষণে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই হাজার পাতার চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, গণধর্ষণ, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা সমেত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধের বিস্তারিত বিবরণও চার্জশিটে রয়েছে বলে দিল্লি পুলিস সূত্রে খবর।

অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নির্যাতিতা তরুণীর যে সমস্ত জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে তাও পেশ করবে পুলিস। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করেছে, তার প্রকৃত বয়স জানতে আজই বোনম্যারো পরীক্ষা করা হবে।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।