নতুন জটিলতায় নরওয়ে সন্তানকাণ্ড

Update: January 8, 2013 17:06 IST

নরওয়ে সন্তানকাণ্ডে ফের জটিলতা। মঙ্গলবার অভিজ্ঞান ও ঐশ্বর্যকে কাকা অরুনাভাস ভট্টাচার্যের কাছ থেকে নিয়ে যান বর্ধমান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্যরা। সঙ্গে ছিলেন সাগরিকা এবং কুলটি থানার পুলিস। এদিকে এদিনই এনিয়ে সাগরিকার দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টে। এঘটনা জানার পর আদালত দুই সন্তানকে ফের কাকার হেফাজতে বুধবারের মধ্যেই ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দুই সন্তানকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ২০১২ সালের ২ জুন জুন বর্ধমান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দ্বারস্থ হন তাদের মা সাগরিকা ভট্টাচার্য। কিন্তু বাচ্চাদুটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষনের জন্য গত বছর এপ্রিল মাসে কাকা অরুনাভাস ভট্টাচার্যকেই দায়িত্ব দেয় নরওয়ে সরকার। এরপরেই চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটির দ্বারস্থ হন সাগরিকা। দুই পরিবারের মধ্যে চলা এই চাপানউতোরের মধ্যেই মঙ্গলবার ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। বর্ধমান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হস্তক্ষেপে কুলটি থানার পুলিস ওই দুই শিশুর বাবা অনুরুপ ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান।  সঙ্গে ছিলেন সাগরিকাও। আসানসোলের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে যান চাইল্ড ওয়েলাফেয়ার কমিটির সদস্যরা।   হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা চলার মাঝখানে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি কীভাবে পুলিসের সাহায্যে এই কাজ করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনুরূপ তবে সাগরিকার পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে আইন মেনেই তারা এই কাজ করেছেন।

দুই সন্তানের হেফাজত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গতবছরই দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাগরিকা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি ছিল চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশ সত্বেও বাচ্চাদের নিজের হেফাজতে রেখে দিয়েছে তাদের কাকা। সন্তানদের তাঁর হেফাজতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে  দাবি জানান সাগরিকা।  মঙ্গলবার ছিল মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি। আদালত চলাকালীনই আইনজীবী মারফত বিচারক জানতে পারেন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হস্তক্ষেপে কুলটি থানা দুই সন্তানকে অনুরুপ ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। এই ঘটনা জানার পরেই আদালত অবিলম্বে দুই সন্তানকে বুধবারের মধ্যেই ফের তাদের কাকার দায়িত্বে্ই ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এবং এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বুধবারই কুলটি থানার ওসিকে  রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।