চিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হল নতুন নেতাদের নাম

Update: November 16, 2012 15:46 IST

অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেসের পর দল এবং দেশের পরবর্তী নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করল চিনের কমিউনিস্ট পার্টি। আগামী মার্চে হু জিনতাওয়ের পর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চিনের প্রেসিডেন্ট পদে বসবেন জি জিনপিং। ওয়েন জিয়াবাওয়ের জায়গায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন লি কেকিয়াং। নতুন এই নেতৃত্বের হাতেই আগামী এক দশক এক দশক পরিচালিত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার এই দেশ।

পরিবর্তন হল প্রত্যাশা মতোই। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ কংগ্রেসের শেষ হওয়ার একদিন পর সারিবদ্ধ হয়ে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন দলের নতুন নেতৃত্ব। নিয়ম মতো নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জি জিংপিং প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের উত্তরসূরী। দেশ পরিচালনায় তিনি সঙ্গী হিসেবে পাশে পাবেন প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংকে। আগামী মার্চেই পার্লামেন্টের বার্ষিক অধিবেশনের পর নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বভার নেবেন। সাধারণ সম্পাদকের বিদায়ি ভাষণে দলে ভেতর দুর্নীতি ও আমলাতন্ত্র নিয়ে সতর্ক করেছিলেন হু জিনতাও। নতুন সাধারন সম্পাদক জি জিংপিংয়ের গলাতেও সেই আশঙ্কারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। জানালেন, এই প্রবণতাকে কড়া হাতে মোকাবিলা করবে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি।

জি জিনপিং তাঁর ভাষণে বলেন, "পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পার্টির ভেতরেই আমাদের হয়তো আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হব। পার্টির ভেতরে দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিকতা বাড়তে দিলে জনগণের কাছ থেকে আমরা দূরে সরে যাব। দল সর্বশক্তি দিয়ে এই প্রবণতার মোকাবিলা করবে।"

বৃহস্পতিবারই প্রথম বৈঠকে বসে চিনের অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেসে নির্বাচিত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। সেখানেই ঠিক হয় পলিটব্যুরোর চব্বিশজন সদস্য এবং সর্ব্বোচ্চ নীতি নির্ধারক পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের নাম। পলিটব্যুরোর এই স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরাই আগামী দিনগুলোতে চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ ঠিক করে দেবেন। এবার এই কমিটির সদস্য সংখ্যা দুই জন কমিয়ে নয় থেকে সাতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এবারে সাধারণ সম্পাদকের পদের পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন জি লিংপিং।

গত এক দশকে হু জিনতাওয়ের আমলে চিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উঠে এসেছে। মাথা পিছু আয় বেড়েছে পাঁচ গুণ। বিশ্বজুড়ে মন্দা চললেও তা ছুঁতে পারেনি চিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে। দুর্নীতি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সেই ধারা বজায় রাখাই চিনের নতুন নেতৃত্বের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।