আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা প্রয়োজন স্বীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী

Update: November 22, 2012 10:39 IST

তেহট্টের মত ঘটনা যাতে রাজ্যে আর না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়েও আরও অনেক বেশি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্যের উন্নয়নের গতিতে যে তিনি সন্তুষ্ট নন, তাও গোপন করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার টাউন হলে সমস্ত দফতরের সচিব, জেলাশাসক এবং পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বগুলা থেকে তেহট্ট-গত আঠেরো মাসে ছবার গুলি চালিয়েছে পুলিস। মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। আর একের পর এক এই গুলি চালানোর ঘটনায় রাজ্য সরকার যে যথেষ্ট বিব্রত তা একপ্রকার স্পষ্ট। প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সেকথা গোপনও করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন তেহট্টের মতো ঘটনা তিনি কখনই চান না। পুলিস ট্রিগার-হ্যাপি হোক কখনই সেটা কাম্য নয়। প্রশাসনের কর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে পুলিসকে। মঙ্গলবার জেলাশাসক, পুলিসের আধিকারিক এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের নিয়ে বৈঠক বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে উন্নয়নের গতি-মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে উঠে এসেছে সবটাই। 
 
শুধু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, উন্নয়নের গতি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী যে খুব একটা খুশি নন, বৈঠকে তাও স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত দেড় বছরে তিনবার মন্ত্রিসভার রদবদল করতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বারবার দফতর বদল করতে হয়েছে। সচিব থেকে অফিসারদের বদলিও করা হয়েছে বহুবার। কিন্তু তাতেও যে অবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটেছে এমনটা দাবি করছেন না কেউই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় আরও দ্রত উন্নয়ন করতে হবে। রাস্তাঘাট থেকে জমি অধিগ্রহণ নজর দিতে হবে সবকিছুতেই। বৈঠকে থাকা মন্ত্রীদের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোন দফতর কীভাবে কাজ করছে সবদিকেই নজর থাকছে তাঁর। তবে এসবকে ছাপিয়ে বারবারই সামনে উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন। আর পুলিসের বারবার গুলি চালানোর ঘটনা। কীভাবে এই অবস্থার মোকাবিলা করা যায় শীর্ষ কর্তাদের তা ভেবে দেখারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।