রাষ্ট্রপতি ভোটের সংঘাত গড়াল 'আইনশৃঙ্খলা'য়!

Update: July 6, 2012 10:29 IST

কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত শেষ পর্যন্ত চরম আকার নিল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম সরব হতেই পাল্টা আক্রমণের পথে গেল রাজ্য সরকারও। চিদম্বরমের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ করে পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করার অধিকার নেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সরকারের এই মন্তব্য শোনার পর চিদম্বরমও সুর চড়িয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘটলে বলার অধিকার সবারই আছে।

জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি নিয়ে একসময় তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে পি চিদম্বরমের সংঘাত চরমে পৌছেছিল। প্রায় প্রতিদিনই যখন দু'জনের মধ্যে পত্রযুদ্ধ চলছিল, সেসময় চিদম্বরমের ভুয়সী প্রশংসা শোনা গেছে বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর গলায়। ১৪ মাসের মধ্যেই বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। এক সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ চিদম্বরমের বিরুদ্ধে মুখ খুলল রাজ্য সরকার।
 
হঠাত্‍ চিদম্বরমের বিরুদ্ধে এত ক্ষুব্ধ কেন মমতা?


কারণ, পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন চিদম্বরম। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ১৪ মাসে পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, রাজ্যের সর্বত্রই আইনের শাসন কায়েম হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার কলকাতা শহরের বুকে দাঁড়িয়েই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর ওই দাবিকেই নস্যাত্‍ করে দিল। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে রাজ্য সরকার।

তাত্‍পর্যপূর্ণভাবে এক্ষেত্রে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান অনুসরম করে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত সুব্রত মুখার্তি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো রাজ্যের অধিকারের তালিকায় থাকা বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলার এক্তিয়ার নেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়াপ্পন চিদম্বরমের
 
তাঁর এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পাল্টা তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে ভাবে রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। তা নিয়ে কথা বলার অধিকার সকলেরই আছে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বণিকসভার এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেন, রাজ্যে যে হারে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে চলেছে, তা কখনই সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচয় নয়। তাঁর মতে, অবিলম্বে আইনের শাসন কায়েম করা একান্ত জরুরি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক হিংসা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু রাজ্যের অন্যান্য অংশে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েই চলেছে।


কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মাওবাদী সমস্যা যখন চরমে, সেই সময়ে ২০১০-এ রাজনৈতিক সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল ২০৪ জনের, আহত হয়েছিলেন ২৬০১ জন। ২০১১ সালে রাজনৈতিক সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা কমে দাড়িয়েছিল ১৩৬, আহত হয়েছিলেন ২৬২৫ জন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, চলতি বছর জঙ্গলমহল আগের তুলনায় শান্ত। তা সত্ত্বেও, ২০১২-র প্রথম ৬ মাসে রাজনৈতিক সংঘর্ষের মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের, আহত হয়েছেন ১১১২জন। এই রাজনৈতিক হানাহানি সুস্থ গণতন্ত্রের পক্ষে ঠিক নয় বলেই মত চিদম্বরমের। গণতন্ত্রের স্বার্থে দ্রুত রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ করে আইনের অনুশাসন ফিরিয়ে আনা একান্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুরত্ব আগেই তৈরি হয়েছিল। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুরত্ব বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের সকলেরই জানা চিদম্বরমের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে ভাল। এমনকি বাম জমানায় বহু ক্ষেত্রে বিরোধী নেত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে দিল্লি থেকেই সওয়াল করেছেন চিদম্বরম। সেই চিদম্বরমের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংঘাত থেকেই পরিস্কার, দুই শরিকের মধ্যে তিক্ততা কোন চরমে পৌঁছে গেছে।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।