শরিকি কাজিয়ায় সরগরম মুর্শিদাবাদ

Update: December 1, 2011 20:27 IST

বেশ কিছুদিন ধরেই দুই জোটশরিকের কাজিয়ায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই কাজিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদে এক জনসভায় কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর নাম না করে তিনি বলেন, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের শক্ত জমি তাঁরা ছিনিয়ে নেবেন।
জনসভায় বেশিরভাগ তৃণমূল নেতারাই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন।
তবে এর মাঝেই প্রকাশ্যে এল জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বও। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তৃতা চলাকালীনই মঞ্চের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল নেতা সাগির হোসেনের অনুগামীরা। তাঁকে জনসভায় বলতে দিতে হবে, এই দাবিতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপারের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিস।


অন্য দিকে শাসক জোটের দুই শরিকের এই তিক্ততার আবহের মধ্যেই ফের অধীর চৌধুরীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, বুধবার সন্ধে সাতটা নাগাদ দুটি বাইকে চেপে ছয় দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। তালা ভেঙে তারা কংগ্রেস সাংসদের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
হামলাবাজদের দেখতে পেয়ে স্থানীয় মানুষ চিত্‍কার শুরু করলে পালিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বহরমপুর থানার পুলিস।
অধীর চৌধুরী এখন দিল্লিতে। এর আগেও তালা ভেঙে জেলা কংগ্রেস সভাপতির বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা হয়েছে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, দলের পক্ষ থেকে বারবার রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনকে নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।