মোতেরা, ওয়াংখেড়ের পর ইডেনও সাক্ষী থাকল কুকের শতরানের

Update: December 6, 2012 15:27 IST



ইন্ডিয়া- ৩১৬
ইংল্যান্ড-২০৬/১
অ্যালেস্টার কুক-১৩৩
জনাথন ট্রট-১৪
আবার কামাল করলেন ক্যাপ্টেন কুক। মোতেরা, ওয়াংখেড়ের পর ইডেনও সাক্ষী থাকল তাঁর শতরানের। অধিনায়ক হিসাবে পরপর তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করার বিরল কৃতিত্ব লাভ করলেন তিনি। তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিক ফর্মের কাছে বড় অসহায় লাগছে ভারতীয় বোলিং বাহিনীকে। মুম্বই জয় করে আসার পর ইডেনেও কুক বাহিনীর ব্যাটিং বিক্রম অব্যাহত। যে পিচ ঘিরে এত বিতর্ক সেখানে এখনও পর্যন্ত ধারহীন লেগেছে জাহির, ইশান্তকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্কোর এক উইকেটে ১৯৪। অধিনায়ক কুক ১৩৩ রানে অপরাজিত হয়ে ২২গজে রাজত্ব করছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন জনাথন ট্রট ১৪ রানে। অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন আর এক ওপেনার নিক কমটন। অবশ্য তার আগে ব্রিটিশ স্কোরবোর্ডে যোগ করে গেছেন অতি প্রয়োজনীয় ৫৭ রান। এর সঙ্গেই টেস্টে নিজের প্রথম অর্ধশতরানটি সেরে রাখলেন কমটন। অবশ্য কমটনের উইকেটটি তুলে নিলেও অশ্বিন বা ওঝা কেউই তেমন উল্লেখযোগ্য বোলিং করছেন না।

ইডেনের বিতর্কিত পিচে ইংরেজ ব্যাটসম্যানরা যেখানে বেশ স্বচ্ছন্দ, সেখানে গতকাল ভীষণ নড়বড়ে লেগেছে বিশ্বখ্যাত ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে। একমাত্র পাওনা মাস্টারব্লাস্টারের ঝকঝকে ৭৩। তাঁকে কিছুটা সঙ্গত দিয়েছেন গম্ভীর(৬০) আর মাহী(৫২)। কিন্তু বাকিরা অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন অ্যান্ডারসন, ফিন, মন্টি পনেসরদের কাছে।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই অল-আউট হয় ভারত। মোট সংগ্রহ ৩১৬ রান। প্রথম দিনের মত দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর একই রকম চাপ বজায় রেখেছিলেন ইংরেজ বোলাররা। ক্যাপ্টেন ধোনির ব্যাটের ওপর ভর করে আজ মাত্র ৪৩ রান যোগ হয়েছে ভারতের স্কোরবোর্ডে। সকালে খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্যাভিলিয়নমুখী হন জাহির খান। এরপর ক্রিজে আসেন ইশান্ত শর্মা। কিন্তু দ্রুতই শূন্য রানে ফিরে যান তিনি। এরপর নবম উইকেটে প্রজ্ঞান ওঝা নামেন। তবে ১৯টি বল খেললেও একটি রানও যোগ করতে পারেননি দলের স্কোরবোর্ডে। মাহীর ৫২ রানের যুদ্ধ থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমাপ্তি ঘটে ভারতীয় ইনিংসের। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম ইনিংসে মন্টি পনেসর ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।