রাষ্ট্রপতি ভোটের ফল আজ, উত্‍সবের প্রস্তুতি তালকোটরা রোডে

Update: July 21, 2012 21:17 IST

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। শুরু হয়ে গেল ভোটগণনা। কয়েকঘণ্টা পরই ঘোষিত হবে দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতির নাম। ইউপিএ প্রার্থী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জয় একরকম নিশ্চিত বললেই চলে। জিতলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। ভোটের ফলের আগের দিন থেকেই তাই ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডের বাড়িতে সাজ সাজ রব।

১৩ নম্বর তালকোটরা রোড। দিল্লিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঠিকানা। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষী এই বাড়িটি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগণনার আগে আপামর ভারতবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রে এই বাড়ি এবং তার আবাসিক।

সংসদের উভয়কক্ষ এবং বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইলেকটোরাল কলেজে মোট ভোটমূল্য ১০,৯৮,৮৮২। জেতার জন্য প্রয়োজন, ৫,৪৯,৪৪২ ভোট। গত ১৯ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট পড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মাত্র ৭২ শতাংশ। অর্থাত্‍ প্রায় ১১ লক্ষ ভোটের মধ্যে ৮ লক্ষের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। তবুও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা আছে বলে মনে করছেন না কেউই। প্রণব মুখোপাধ্যায় ম্যাজিক ফিগার সাড়ে ৫ লক্ষের থেকে অনেকটাই বেশি ভোট পাবেন বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

ইউপিএ শিবিরের ভোট ম্যানেজারদের হিসেব, পূর্বঘোষিত সমর্থন ও ক্রস ভোটিং মিলে অন্তত ৭ লক্ষ ভোট পাওয়া উচিত জঙ্গিপুরের সাংসদের। প্রতিদ্বন্দ্বী পি এ সাংমা পেতে পারেন ৩ লক্ষের সামান্য বেশি ভোট। ফল ঘোষণার আগের দিন থেকেই ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডের বাড়িতে তাই গণ্যমান্য অতিথিদের আনাগোনা। আগাম অভিনন্দন জানাতে আসছেন সবাই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এনডিএ প্রার্থী পূর্ণ অ্যাজিটক সাংমাকে হারিয়ে দেশের পয়লা নম্বর নাগরিক হওয়াটা প্রণববাবুর কাছে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতে ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডের বাসভবনে জয় উদ্‌যাপনের প্রস্তুতিও তুঙ্গে। বাংলোর লনে বাঁধা হয়েছে ম্যারাপ। সুসজ্জিত বসার আসন রাখা হয়েছে। আতিথ্যে কোনও খামতি রাখতে চান না দেশের সম্ভাব্য প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর পরিবার। পাশপাশি রাষ্ট্রপতি ভবনেও ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। নতুন বাসিন্দাকে স্বাগত জানাতে তৈরি হচ্ছে রাইসিনা হিলস।



Post Your Comment

Total Comments:1

I want Pranab

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।