সঙ্কট কাটাতে পরিষেবায় কোপ, বন্ধ ১৮ টি রুট

Update: December 6, 2011 20:16 IST

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্প পুনর্গঠন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির আশ্বাস ছিল-রুগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরিবহণ সংস্থা থেকে কোনও কর্মী ছাঁটাই হবেনা। প্রতিশ্রুতি ছিল, সবকটি সংস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে লাভজনক করার চেষ্টা করবে মমতা ব্যানার্জির সরকার। হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা। একদিকে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরিবহণ সংস্থার প্রায় আঠোরে হাজার কর্মীর বেতন অনিয়মিত বা বন্ধ। চার হাজার পেনশনভোগীর পেনশন নেই। সেইসঙ্গে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে দেওযারও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বেতন নেই। পেনশন নেই। বাস মেরামতির টাকা নেই। নেই-রাজ্যে কার্যত বিলুপ্তির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে রাজ্যের পাঁচটি রুগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরিবহণ সংস্থা। রাস্তায় ক্রমশঃ কমছে বাসের সংখ্যা। অলাভজনক উনিশটি রুটে ধাপে ধাপে বাস তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা পাকা হচ্ছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর। বাকি তিপান্নটি রুটেও ডুমুরের ফুল হয়ে উঠেছে সরকারি বাস। সিএসটিসি-র হাতে মোট বাস ৮৩৫। এই মূহূর্তে সচল ৪৩০ টি। যন্ত্রাংশ এবং রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে গত ছ মাসে বসে গেছে ১৩৫ টি বাস। সিটিসি-র ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৩৬২, ১৮৫ এবং ১৭৭। এসবিএসটিসির মোট বাস ৪৮০। সচল রয়েছে মাত্র ৩২৫ টি। অচল ১৫৫ টি । একই দশা এনবিএসটিসির। পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৭০৫, ৪৫৫ এবং ২৫০। আর ভূতল পরিবহণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৮৫,১২৫ এবং ৬০। উল্টোদিকের ছবিটা আরও ভয়াবহ। পরিবহণ খাতে চলতি মাসেই পাঁচ শতাংশ ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। যার নেট ফল, রুগ্নতর হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি পরিবহণ পরিকাঠামো।

সিএসটিসির মোট কর্মী ৬০১৩। বেতনবাবদ তাদের জন্য সরকারের ব্যায় ১৩ কোটি টাকা। আর টিকিট বেচে সংস্থার আয় ৫ কোটি টাকা। একইভাবে সিটিসির ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৬৪৯২, ১৩ কোটি এবং ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এসবিএসটিসির ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম। টিকিট বেচে আয় ৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। এনবিএসটিসির ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। ভর্তুকি প্রত্যাহার হলে এই সংস্থাগুলি কিছুদিনের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে কর্মীদের আশঙ্কা। অলাভজনক রুটে সরকারি বাস চালানো সরকারের জনহিতকর প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। কারণ যে রুটগুলি লাভজনক, সেখানে বাস চালাতে এমনিতেই আগ্রহী বেসরকারি বাস মালিকরা। সরকার যদি বাস রুটে লাভ লোকসানের অঙ্ক কষতে শুরু করে, তাহলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শহরের অপেক্ষাকৃত কম বসতিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষ ঘোরতর পরিবহণ সঙ্কটে পড়বে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরিবহণ সংস্থা মিলে রাজ্যে মোট চলাচলকারী বাসের মাত্র ১১ শতাংশ চালায়। বাকি ৮৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি বাস মালিকরা। ভর্তুকি প্রত্যাহার করলে একদিকে যেমন ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারাবে, তেমনই বেসরকারি বাসের মর্জিমাক চলতে বাধ্য হবেন অসহায় আমজনতা।
 





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।