দিল্লির শিশু কন্যা ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবক বিহার থেকে ধৃত

শিশুকন্যা ধর্ষণ: প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানীর রাজপথ

শিশুকন্যা ধর্ষণ: প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানীর রাজপথশিশুকন্যা ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানীর রাজপথ। সমগ্র ঘটনায় পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। দিল্লি পুলিসের সদর দফতরের বাইরে ভিড় জমিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। হাতে পোস্টার আর ব্যানার, মুখে সরকার আর দিল্লি পুলিসের বিরুদ্ধে স্লোগান নিয়ে বেশ কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে ফেলারো চেষ্টা করেছেন। সামগ্রিক ভাবে দিল্লিতে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনা রোধে ব্যর্থ দিল্লি পুলিস কমিশনার নীরজ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

অবশেষে আজ সকালে পুলিসের জালে ধরা পড়ল দিল্লিতে শিশু কন্যা ধর্ষণের ঘটনায় অভিযু্ক্ত যুবক। গতকালই দিল্লি পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছিল, ওই যুবককে গ্রেফতার করতে বিহারের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে পুলিসের দুটি দল। এরপর  গতরাতে মুজাফফরপুর থেকে  গ্রেফতার করা হয় বছর আঠাশের মনোজকে। ধৃত মনোজ পেশায় দর্জি বলেই জানা গেছে। আগেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আজই অভিযুক্তকে মুজাফফরপুরে আদালতে পেশ করবে পুলিস। এরপরেই ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে দিল্লি নিয়ে আসা হবে বলেই পুলিসসূত্রে জানা গেছে।

পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে টানা দু`দিন ঘরে বন্দি করে ধর্ষণ চালিয়েছিল ধৃত দুষ্কৃতী। চলতি মাসের ১৫ তারিখ শিশুটিকে চুরি করে মনোজ। অভিযোগ দু`দিন ঘরের মধ্যে বন্দী রেখে মেয়েটির উপর পৈশাচিক অত্যাচার চালায় সে। ওই শিশুকন্যার বাবা সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন তাঁর মেয়ের নিরুদ্দেশের কথা থানায় জানালেও পুলিস উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। উল্টে অভিযোগ, পুলিস শিশুটির বাবাকে টাকার বিনিময় চুপ থাকতে বলে।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, শিশুকন্যাটির যৌনাঙ্গে মোমবাতি, বোতল ঢুকিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। শিশুটির ঠোঁট ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। চিকিৎসারত ডাক্তার জানান তিনি চিকিৎসা জীবনে প্রথমবার এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখলেন। তাঁর কথায়, "পরীক্ষায় শিশুটির যৌনাঙ্গে ২০০ মিলিমিটার বোতল, মোমবাতির টুকরো ঢোকানোর ক্ষত দেখেছি আমরা। আমি জীবনে প্রথম এই বর্বরতা দেখলাম।

তিনি আরও জানিয়েছেন, "শিশুটির ঠোঁটে, গালে ক্ষতচিহ্ন। গলায় কালসিটে দেখে অনুমান করা যায় তাকে গলা টিপে খুন করার চেষ্টা চালিয়েছিল ওই দুষ্কৃতী। শিশুটিকে যখন ভর্তি করা হয় তখন তার রক্তচাপ স্বাভাবিকের অনেক নিচে।"

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে শাহদারার স্বামী দয়ানন্দ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাঁকে এইমসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সূত্রে খবর। ওই শিশুটির অবস্থা এখনও বেশ আশঙ্কাজনক। আগামী ৪৮ ঘণ্টা না কাটলে কিছুই বলতে পারবেন না ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

আত্মীয় পরিজনদের বিক্ষোভের জেরে শুক্রবার সন্ধেয় শিশুটিকে এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সঙ্কট এখনও কাটেনি বলেই জানিয়েছেন চিকিত্‍সকরা। একাধিক চিকিত্‍সক তাকে পরীক্ষা করছেন।

অন্যদিকে কর্তব্যে গাফিলতি এবং পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই পুলিসকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে গান্ধীনগর থানার হেড অফিসার ধরমপাল সিং এবং সাব ইন্সপেক্টর মাহবীর সিংকে।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, গান্ধীনগর থানায় এফআইআর দায়ের করতে গেলে পুলিস তাঁর হাতে দুহাজার টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার কথা বলে।

প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও শুক্রবার রাতে দিল্লি পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।  







First Published: Saturday, April 20, 2013, 13:35


comments powered by Disqus