ব্যরিকেড ভেঙে বিক্ষোভ পৌঁছল সংসদ ভবন

পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে আজও দিল্লিতে প্রতিবাদ অব্যাহত। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি পুলিসের নির্দেশে তিনটে মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা দেওয়া হল।

Updated: Apr 22, 2013, 09:05 AM IST

টানা চার দিন। গত চার দিন ধরে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে রাজধানী দিল্লিতে। প্রতিবাদ পাঁচ বছরের শিশু কন্যার ধর্ষণের। রাস্তায় নেমেছেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে বহু রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা। কছুক্ষণ আগে সাংসদ ভবনে উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিক্ষোভকারীরা। একেরপর এক ব্যরিকেড ভাঙতে থাকে। পুলিস তাঁদের আটকে দেয়। পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে আজও দিল্লিতে প্রতিবাদ অব্যাহত। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি পুলিসের নির্দেশে তিনটে মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা দেওয়া হল।
সেন্ট্রাল সেক্রেটরিয়ট, উদ্যোগ ভবন ও রেস কোর্স রোড মেট্রো স্টেশনগুলি আজ সকাল ১০টা ১৫ নাগাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যেই জন্তর মন্তরের সামনে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেছেন বিক্ষোভকারীরা, আর এক দল বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এইমস আর দিল্লি পুলিসের  সদর দফতরের সামনেও সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমাজকর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আজকেও।
যদিও বিক্ষোভকারীদের ঠেকিয়ে রাখতে ইন্ডিয়া গেট সহ অনান্য জায়গা গুলি কড়া পুলিসি প্রহরার বেষ্টনীতে ঢেকে ফেলা হয়
আজ সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে জানিয়েছেন এই ঘটনায় পুলিসের পুলিসের ভূমিকা নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ গুলি উঠেছে সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দিল্লির শিশুকন্যা ধর্ষণ কাণ্ডে দ্বিতীয় অভিযুক্ত প্রদীপ কুমারকে বিহারের লাখিসারাই থেকে গ্রেফতার করল পুলিস। সূত্রে খবর দিল্লি ও বিহার পুলিসের যৌথ অপরেশনে লাখিসারাইয়ের বাধাইয়াতে প্রদীপ কুমারের মামার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রদীপ আদতে বিহারেরি দ্বারভাঙ্গার বাসিন্দা।
প্রদীপ কুমারকে ইতিমধ্যে লাখিসারাইয়ের আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ঘটনার আরেক অভিযুক্ত মনোজের মতই প্রদীপকেও দিল্লি নিয়ে আসতে পুলিস আদালতে 'ট্রানসিট রেমান্ড' চেয়েছে।
গতকাল, এই নৃশংস ধর্ষণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মনোজ কুমার দিল্লি পুলিসের কাছে দাবি করে এই ঘটনায় ওপর আরেকজন তার সঙ্গী ছিল।
মনোজের দাবি সত্যি হলে ধৃত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা দায়ের করা হবে।
মনোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত সপ্তাহের সোমবার পাঁচ বছরের প্রতিবেশী শিশু কন্যাটিকে অপহরণ করে টানা দু'দিন তার উপর পৈশাচিক যৌননির্যাতন চালায় সে। মেয়েটি মৃত ভেবে বুধবার বাড়ি থেকে পালায় মনোজ। বুধবার সন্ধেতে প্রতিবেশীরাই মেয়েটির গোঙানির শব্দ পেয়ে মনোজের ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে। পুলিসে শিশুটির পরিবার তার নিরুদ্দেশের খবর জানালেও, অভিযোগ মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পুলিস বিন্দুমাত্র উদ্যোগ নেয়নি।
ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েটি অকথ্য নির্যাতনের শিকার। তার যৌনাঙ্গ থেকে পাওয়া গেছে মোমবাতি, বোতলের ভাঙা টুকরো। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন এইমসের ডাক্তাররা।
গতকালও এই ঘটনার প্রতিবাদ উত্তাল হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদেও সোচ্চার হয়েছে বিক্ষোভ। দিল্লি পুলিসের সদর দফতর, এইমসের সামনে, ইন্ডিয়া গেট চত্বর , ১০ জনপথ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ।