যন্ত্রণার জবানবন্দি দিলেন তরুণীর বন্ধু

Last Updated: Saturday, January 5, 2013 - 09:05

দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ড শুধু দেশের সাধারণ মানুষকেই স্তব্ধ করে দেয়নি। ঘটনার নৃশংসতায় শিউরে উঠেছিলেন পুলিসকর্তারাও। কিন্তু শরীর জুড়ে পাশবিক অত্যাচারের যন্ত্রণা তেইশ বছরের ওই তরুণীর মনোবল ভাঙতে পারেনি। তাই হাসপাতালের বেডে শুয়েই বয়ান দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট পরে লিখিতভাবে জানান, চাপের মুখে বয়ান দিয়েছেন নির্যাতিতা। এনিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। ঘটনার পর টিভির পর্দায় মুখ খুলে এবিষয়ে একরাশ ক্ষেভ উগরে দিলেন তরুণীর বন্ধু।
দিল্লির রাজপথে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। রাজধানী জুড়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ, তরুণীর মৃত্যুর পর শোক, মৌনমিছিল এত কিছু মাঝে অন্তরালেই ছিলেন নির্যাতিতার বন্ধু। যিনি ষোলো ডিসেম্বর রাতে তরুণীর সঙ্গে ছিলেন। বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে বেধড়ক মার খেয়েছিলেন। এই প্রথমবার টেলিভিশনের পর্দায় মুখ খুললেন তিনি। ভয়াবহ ওই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অকপটে জানালেন সেদিনের দুঃস্বপ্নের বাসযাত্রার কথা। মৃত বন্ধুর জন্য বিচারও চাইলেন।
তরুণীর ওই বন্ধু আরও জানিয়েছেন ঘটনার দিন দুষ্কৃতীরা তাঁদের রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর প্রাথমিক অবস্থায় পুলিস বা পথচারী কেউই সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। বারবার সাহায্যের আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এমনকি পিসিআর ভ্যানেও রক্তাক্ত বন্ধুকে তোলার সময় পুলিস এগিয়ে আসেনি।
ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ রুখতে পরিবর্তন দরকার সর্বস্তরে। ঘটনার পরে টেলিভিশনের পর্দায় প্রথমবারের জন্য মুখ খুলে এমনটাই বললেন দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে নিহত তরুণীর বন্ধু। তাঁর দাবি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন দরকার।  পাশাপাশি প্রয়োজন আইনি এবং পুলিসের আচরণের পরিবর্তনও। একটাই দুঃখ। আপ্রাণ চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি বন্ধুকে। তবে বন্ধুর স্মৃতিতে তাঁর মৃত্যুর পরেও দোষীদের শাস্তির জন্য লড়বেন। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের শিকার তরুণীর বন্ধু। আমজনতার প্রতি তাঁর অনুরোধ, দিল্লি গণধর্ষণকা্ণ্ডে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে তা যেন থেমে না যায়। সেটাই হবে মৃত তরুণীর প্রতি একমাত্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।



First Published: Tuesday, January 8, 2013 - 15:08


comments powered by Disqus