কলঙ্কের যুবভারতী, প্রশ্নের মুখে পুলিস প্রশাসন

Update: December 10, 2012 09:47 IST

কালকে যুবভারতীর ক্ষত আজকেও সমান দগদগে। ফুটবলের কলঙ্কের মাঝেই প্রশ্ন উঠছে কালকের ম্যাচে পুলিসের ভূমিকা নিয়েও। গতকাল কার্যত যুবভারতীর উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ পুলিস-প্রশাসন। এই রকম উত্তেজনার ম্যাচে আগে থেকে দর্শক নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থাই পুলিসের তরফ থেকে নেওয়া হয়নি। উঠছে এমনই অভিযোগ।

ফের একবার বড় ম্যাচ পরিচালনায় ব্যর্থ রাজ্যের পুলিস- প্রশাসন। রবিবারের বড় ম্যাচ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা ছিল চরমে। সেকারণে মাঠে প্রচুর পুলিসও মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু গ্যালারিতে বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় প্রায় কোনও ভূমিকাই নিতে পারেনি পুলিস। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। বড় ম্যাচ মোকাবিলায় কী আদৌ প্রস্তুত ছিল পুলিস? ইটবৃষ্টির পর লাঠি চালাতে শুরু করে পুলিস। কিছুক্ষণের মধ্যে গ্যালারি প্রায় ফাঁকা করে দেওয়া হয়। দর্শকদের লক্ষ্য করে পাল্টা ইট ছোড়ে পুলিসও। তাতে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস যে ভঙ্গিমায় লাঠি চার্জ করেছে তাও যথেষ্ট নিন্দার দাবি রাখে। পুলিসের লাঠি চার্জে আহত হয়েছেন ১৬জন মোহনবাগান সমর্থক। তাঁদের মধ্যে কারও কারও চোট গুরুতর।

মাঠে যথেচ্ছ পরিমাণ নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও নিরাপত্তা যে বিন্দুমাত্র ছিল না, কালকের পরিত্যক্ত যুবভারতী তার জ্যান্ত প্রমাণ। কী ভাবে মাঠে দর্শকরা বাল্ব, বোতল, অস্ত্র নিয়ে অনায়াসে ঢুকে যেতে পারে প্রশ্ন উঠছে সে সব কিছু নিয়েই। শুধুতাই নয় গ্যালারিতে মজুত ছিল প্রচুর আতস বাজি, রড, বাঁশ। কোথা থেকেই বা আসে এত ইঁটের যোগান? এই সবই ম্যাচ শুরুর আগে তল্লাশির ক্ষেত্রেও পুলিস প্রশাসনের চরম গাফিলতিকে প্রমাণ করে। এক লাখ দর্শককে সামলাতে একজনও পুলিস উপস্থিত ছিলেন না গ্যালারিতে। এই রকম উত্তেজনার ম্যাচে যেখানে প্রতি ছত্রে প্রয়োজন ছিল কড়া নিরাপত্তার, সেখানে নুন্যতম হোমওয়ার্কটুকুর আভাস মেলেনি পুলিসের ভূমিকায়।

অবশ্য ম্যাচ নিরাপত্তাজনিত প্রশাসনিক গাফিলতির কথা মেনে নিতে চাননি ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিসের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। যুবভারতীর ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।