কুডি়র বিশ্বকাপে ধোনিদের ব্যর্থতা আইপিএলের `সাইডএফেক্ট`!

Update: October 4, 2012 18:14 IST

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ার পর উঠে গেল সেই বিতর্কিত প্রশ্নটাই। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বারবার ব্যর্থতার `ভিলেন`টা আসলে কে?সবাই আঙুল তুলতে শুরু করেছে আইপিএলের দিকেই। আসলে বিশাল টাকা ছাড়া আইপিএলের সুফল হিসাবে ভারতীয় বোর্ড কর্তারা বলতে চান যে এই ধরনের কঠিন প্রতিযোগিতামূলক টি টোয়েন্টি ম্যাচে খেলে আমাদের দেশের ক্রিকেটাররা অনেক `ধারালো` হচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে ঠিক উল্টো।আইপিএলে ক্রিকেটীয় লাভের সব গুড় এসে খেয়ে যাচ্ছে বিদেশী ক্রিকেটাররা। এই ক`বছরে আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি বিশ্বে মহাতারকার জন্ম হয়েছে আইপিএল থেকেই।টি টোয়েন্টিতে গেইল,নারিন,ওয়াটসনদের হিট থেকে মেগাহিট হওয়ার পিছনে সেই আইপিএল। একটা সময় উপমহাদেশের পিচে প্রায় অন্ধকার দেখতেন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড,ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু আইপিএলে অনেক ম্যাচ খেলে উপমহাদেশের পিচ প্রায় জলভাত হয়ে গিয়েছে এই সমস্ত দেশের ক্রিকেটারদের। তাহলে ব্যাপার কি দাঁড়াল! ধোনিদের ব্যর্থতার দায় কী আইপিএলের? আইপিএল খেলে ব্যাঙ্ক ব্যালন্সকে প্রায় পাহাড়প্রমাণ করে তোলা ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি কিন্তু সে কথা মানছেন না। ধোনি বলছেন, এমন প্রশ্ন ওঠা অবান্তর। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেরে দেশে ফিরে ধোনিকে প্রশ্ন করা হয়, এটা কি আইপিএলের `সাইডএফেক্ট`? ধোনি সব অভিযোগ উড়িয়ে বললেন, "আইপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলে আমাদের উন্নতিই হচ্ছে।"

পরপর তিনবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারল না ভারত। অথচ টি টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসরটা মানে আইপিএলটা হয় ভারতেই। মজার কথা, যতদিন ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রে আইপিএল ছিল না, ততদিনই টি টোয়েন্টিতে ভারত বেশ ভালই ছিল।২০০৭টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধোনিরা বিশ্বজয়ও করেছিলেন। এরপরই আইপিএলের উত্থান। ক্রিকেটের এই পুচকে ফর্ম্যাটের বিনোদনি মঞ্চে বিদেশি ক্রিকেটারদের আধিপত্য থাকল প্রথম থেকেই। সেওয়াগ, জাহির, ভাজ্জিদের পিছনের বেঞ্চে ঠেলে দিয়ে আইপিএল জুড়ে থাকেন কখনও গেইল, কখনও ওয়ার্ন, আবার কখনও সুনীল নারিনরা। বাকিটা পরিসংখ্যান বলবে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের ব্যর্থতার মাঝে দিব্যি খেলে ওরা!

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।