'ব্র্যান্ড মোদী'র পালিশ তুলতে কেশুভাইয়ের পাশে 'হীরক রাজা'রা

Update: August 15, 2012 14:11 IST

বিজেপি ছেড়ে নতুন দল গড়ে নরেন্দ্র মোদীর দিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেল। আর এই লড়াইয়ে তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে রাজ্যের প্রভাবশালী ডায়মন্ড মার্চেন্ট'স লবি। তা নিয়েই প্রতিবেদন লিখেছেন সায়ন ত্রিপাঠী


গত বারের বিধানসভা ভোটে অন্তিম প্রহর পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ধ্বজা তুলে ধরেও শেষ পর্যন্ত বিজেপি হাইকম্যান্ডের চাপের মুখে রণে ভঙ্গ দিয়েছিলেন তিনি। ৫ বছরের দীর্ঘ নিরবতা ভেঙে, রাজনৈতিক মহলের সামনে রহস্যের পর্দা তুলে এবার কিন্তু স্বমহিমায় অবতীর্ণ হয়েছেন অশীতিপর কেশুভাই প্যাটেল। আর গুজরাটে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে দেড় দশকের একপেশে রাজনৈতিক সমীকরণে এনে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা। তাঁর এই বিদ্রোহ গেরুয়া শিবিরের ক্ষমতার অলিন্দের হাওয়াটা এলোমেলো করে দিয়েছেন হঠাত্‍ই।

চলতি মাসের গোড়াতেই বিজেপি'র সঙ্গে তিন দশকের সম্পর্কে ইতি টেনে 'গুজরাট পরিবর্তন পার্টি' গড়েছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই । পাশে পেয়েছেন, আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুরেশভাই মেহতা, রাজ্য বিজেপি'র প্রাক্তন সভাপতি কাশীরাম রানার মতো হেভিওয়েট নেতাদের। মোদীর সঙ্গে সংঙ্ঘাতের জেরে বিজেপি ত্যাগী প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোর্ধন ঝদাফিয়াও নিজের গড়া 'মহাগুজরাট জনতা পার্টি'র সাইনবোর্ড নিয়ে সামিল হয়েছেন কেশুভাইয়ের দলে।

নব্বইয়ের দশকে পতিদার(প্যাটেল) জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেশুভাইয়ের জনপ্রিয়তাকে ভিত্তি করেই সৌরাষ্ট্র সাংগঠনিক ভিত গড়েছিল বিজেপি। কৃষকদের মধ্যে মজবুত সংগঠন গড়ার পাশাপাশি হিরে ব্যবসার দৌলতে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত সৌরাষ্ট্র থেকে দলকে অকাতরে অর্থ যুগিয়েছিলেন কেশুভাই। এবার 'ঘাঞ্চি তোলি' নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদীকে বধ করার জন্য সৌরাষ্ট্রের সেই 'হীরক রাজা'দের পাশে পেয়েছেন 'প্যাটেল হৃদয়সম্রাট'! আর তাঁদের সাহায্যে ২০০১ সালে মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে তাঁকে সরানোর প্রতিশোধ তুলতে বদ্ধপরিকর কেশুভাই।


রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের খবর, 'ব্যান্ড মোদী'র উজ্জ্বল পালিশটাকে বিবর্ণ করতে কেশুভাইয়ের দলের হাতে ১৮০ কোটি টাকা তুলে দিচ্ছে এই হিরে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা ভোটে গুজরাটের ১৮২টি কে এই অর্থের বলে বলীয়ান হয়েই বিজেপি'র সঙ্গে টক্কর দেবেন গুজরাট পরিবর্তন পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বিধানসভা ভোটে গুজরাটের একজন প্রার্থী মাত্র ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারেন। তাই মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে সরাসরি দলের অর্থের উত্‍স কিংবা ভোটের খরচ সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি দলের অন্যতম নেতা গোর্ধন ঝদাফিয়া।

স্বভাবতই টিম কেশুভাইয়ের এই তত্‍পরতায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতার যারপরনাই খুশি। ১৯৮৯ সাল থেকে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর রাজ্যে কোনও ভোটে জিততে পারেনি কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে কেশুভাইয়ের প্যাটেন জনভিত্তি আর ভোট কাটাকাটির অঙ্কে ভর করে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের স্বপপ্ন দেখছেন শঙ্কর সিং বাঘেলা-অর্জুন মোডভাদিয়া-ভরত সোলাঙ্কিরা। যদিও বিজেপি শিবিরের দাবি, জাতপাতের অঙ্ক আদৌ এতটা সরলরেখায় চলবে না। তুলনায় উচ্চবর্ণের কিন্তু সংখ্যায় লঘু লউভা প্যাটেলরা কেশুভাইয়ের পক্ষে ভোট দিলেও অপেক্ষাকৃত নিচু সামাজিক অবস্থানের সংখ্যাগুরু কড়ুয়া এবং আঞ্জানা পাতিদারদের আনুগত্য থাকবে নরেন্দ্র মোদীর দিকেই।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।