যাত্রীভাড়া বাড়িয়ে সংস্কারের বার্তা রেলমন্ত্রীর

Last Updated: Wednesday, March 14, 2012 - 14:02

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং 'মা-মাটি-মানুষ'-কে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি রেলমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রেল বাজেট পেশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর 'সহযোগিতা'র কথাও কবুল করলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাত্‍পর্যপূর্ণভাবে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের তৃতীয় রেল বাজেটেই খোলাখুলি স্বীকার করে নেওয়া হল পপুলিজম-এর রাজনীতির অভিঘাতে ধ্বস্ত ভারতীয় রেলের 'ভাঁড়ে মা ভবানী' দশার কথা। আর সেই সঙ্গে প্রায় এক দশক পর সমস্ত স্তরের যাত্রীভাড়া বাড়িয়ে ভোট রাজনীতির সংকীর্ণ দায়বদ্ধতা অতিক্রম করে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পথে হাঁটার বার্তা দিলেন রেলমন্ত্রী।
এদিন রেল বাজেট পেশের সূচনা করতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অর্থ সঙ্কটে জর্জরিত রেলের স্বাস্থ্য উদ্ধারে বড় ধরনের আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন 'জাতীয় পর্যায়ের সুসংবদ্ধ নীতি'। রেলের আধুনিকীকরণের জন্য ৫.৬ লক্ষ কোটি টাকা এবং সাধারণ ব্যয়বরাদ্দের জন্য প্রয়োজন হলেও এই মুহূর্তে রেলের ভাঁড়ারে মাত্র ১ লক্ষ কোটি কোটি টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মেনে নিয়েছেন, অর্থের এই অকুলানের ফলে ৪৭০টি প্রকল্প অসমাপ্ত থাকার কথা। আর এ ক্ষেত্রে দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলের আর্থিক সমস্যা মেটানোর এই চ্যালঞ্জের মোকাবিলায় চেনা ছক মেনেই কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়েছেন বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ। কেন্দ্রের থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রেলওয়ে যোজনা'র থেকে তাঁর প্রত্যাশা ৫ লক্ষ কোটি টাকা।

ভোট রাজনীতির স্বার্থে গত এক দশক ধরে রেলভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এই সময়ের মধ্যে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সেই সঙ্গে এসেছে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার আর্থিক ধাক্কা। ফলে `অপারেটিং রেশিও` বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত এই হার ৮৪.৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রায় এক দশক পর সমস্ত স্তরের যাত্রীভাড়া বাড়িয়ে তারই একটা প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন তিনি।
তবে প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের `কল্পতরু` বাজেট পেশের পথ পরিহার করতে পারেননি দীনেশ ত্রিবেদী। পূর্বসূরীর মতোই নানান প্রতিশ্রুতির পসরা রয়েছে তাঁর বাজেটে। ৬,৮৭২ টাকা ব্যয়ে ৭২৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপন, ৮২৫ কিলোমিটার গেজ পরিবর্তন, ১১৪টি নয়া লাইনের সার্ভে`র কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। ঘোষণা করেছেন ১৯ হাজার কিলোমিটার রেল লাইনের আধুনিকীকরণের জন্য ৬,৪৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা। ১০০০টি নতুন স্টেশন তৈরি এবং আগামী ৫ বছরে ১০০টি স্টেশনের `বিমানবন্দরের ধাঁচে` উন্নয়ন করার অঙ্গীকার করে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্টেশনের উন্নয়নে আলাদা সংস্থা গঠন করবে তাঁর মন্ত্রক। এর ফলে রেল স্টেশনগুলিতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রস্তাবিত পণ্যবাহী রেল করিডোরগুলির জন্য বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তা নেওয়ার কথাও রয়েছে নয়া বাজেটে।

যাত্রী সুরক্ষায় ১৬,৮৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার দিকটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছে, `রেলওয়ে সেফটি অথ়রিটি`। শুধুমাত্র সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্যই ব্যয় হবে ১,১০০ কোটি টাকা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সমস্ত প্রহরীহীন লেভেল ক্রসিং বন্ধ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেল বাজেটের মতোই দীনেশের বাজেটেও রয়েছে নতুন একগুচ্ছ ট্রেন চালুর প্রস্তাব। যদিও পূর্বসূরীর `ভিশন ২০২০`-র স্বপ্ন সফল করার জন্য ন্যূনতম যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি ছাড়া আর্থিক সংস্থানের স্পষ্ট দিশানির্দেশিকা নেই বাজেটে। ফলে লক্ষ্যপূরণের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ থেকেই গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।



First Published: Wednesday, March 14, 2012 - 14:44


comments powered by Disqus