সরকারের সঙ্কটের দিনলিপি

Update: March 19, 2013 18:19 IST

আচমকাই ইউপিএ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ডিএমকের। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিকের বেরিয়ে আসা চাপ বাড়িয়েছেন সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে। বিজেপি অনাস্থা আনার তোড়জোড় শুরু করছে। যদিও সপা ও বসপা এখনই ইউপিএর হাত ছাড়তে রাজি নয়। চেন্নাই থেকে দিল্লি। এক বৃহত্তম রাজনৈতিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যটা ঠিক কিরকম ছিল, দেখে নেব একনজরে---

৬.১৬: সরকার ফেলে দিতে নয়, বরং তামিলনাডুর মানুষের পাশে থাকতেই ডিমকের সমর্থন প্রত্যাহার। বললেন সাংসদ এস গণপথ্য।

৫.৪০: সরকারের দাবি, 'গণহত্যা' শব্দতে আপত্তির কথা ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠকে খোলসা করেনি। কংগ্রেস নেতৃত্বের কথায়, "শ্রীলঙ্কার পক্ষে সংসদে প্রস্তাব আনাই ছিল তাঁদের একমাত্র দাবি।"

৪.৪০: তিন দফা দাবিতে অনড় ডিএমকে। ইউএনের প্রস্তাবে 'গণহত্যা' শব্ধ ব্যবহার না করা ও 'যুদ্ধ অপরাধ' শব্দটির ব্যবহার। এই ছিল ডিএমকের প্রধান দাবি। তিন দশক আগে তামিল যুদ্ধ সৈনিকদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান আর্মির ব্যবহারের তদন্ত করাও রয়েছে ডিএমকের দাবির মধ্যে।  

০২.০৩: শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে তামিলনাডুর জনতাকে ঠকিয়েছে ডিএমকে। করুণানিধির সমর্থন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ডিএমকে ঠুকলেন এআইডিএমকে নেত্রী জয়ললিতার।

০১.৫৮: সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার কোনও প্রশ্নই নেই।

০১.৪৪: গোপালকৃষ্ণন, ইনফোসিস: ভারতীয় অর্থনীতিতে স্থিরতার জন্য সরকারের টিকে থাকা খুব জরুরী

০১.৩৭: ইউপিএ সরকারের পাশে থাকছে বিএসপি।

দুপুর০১.২৯: ডিএমকের সমর্থন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের পর সেনসেক্স-এ ধস।

দুপুর ০১.২১: ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার তামিলনাড়ুর আঞ্চলিক দল ভিসিকের।

দুপুর ০১.১২: ইউপিএ থেকে সরে আসতে নারাজ সমাজবাদী পার্টিও।

দুপুর ০১.১০: শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে যোগ্য তদন্তের দাবি জানালেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ডিএমকের সমর্থন প্রত্যাহারের পরই নড়েচড়ে বসে ১০ জনপথ।

দুপুর ১২.৫৮: বিজেপি পুরো ঘটনা নিয়ে বলল, সংবিধানের জেনোসাইড হচ্ছে।

দুপুর ১২.৫৭: ডিএমকের দাবিগুলি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।

দুপুর১২.৫৬: শ্রীলঙ্কার তামিল নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে সরব ডিএমকে।

দুপুর ১২.৫৫: সমাজবাদী পার্টির ধারণা, শুধু হুমকিই দিচ্ছে ডিএমকে।

দুপুর ১২.৫৩: ২৫ তারিখ এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকের ডাক ডিএমকের।

দুপুর ১২.৪৫: বিজেপি নেতা রাজীব প্রাতাপ রুডি বলেন, "ডিএমকে নিজেদের সিদ্ধান্তে কতটা অনড় থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে যেটা উল্লেখযোগ্য, এখন ইউপিএর শরিকরাও মনমোহন সিংয়ের সরকারের প্রতি অতিষ্ট হয়ে রয়েছে।" তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার ছেড়ে বেরিয়ে আসার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এই বিজেপি নেতা।
 
১২.৪২: সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাম গোপাল যাদব বলেন, "ডিএমকে যেহেতু এখনও তাঁদের পদত্যাগ পত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠায়নি। এখনও পর্যন্ত আমরা ইউপিএর পাশেই আছি।"

১২.৩৯: নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যবিনেট কমিটি শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে বিকেলেই বৈঠকে বসবে।

১২.৩৪: শ্রীলঙ্কার রেজলিউশনে 'গণহত্যা' শব্দটির ব্যবহারে আপত্তি জানায় বিজেপি।

১২.২৩: উত্তাল লোকসভা। দুপুর দুটো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি।

১২.২২: শ্রীলঙ্কার রেজলিউশন তামিল নাগরিকদের দাবি পুরণ করতে ব্যর্থ, দাবি ডিএমকের।

১২.২০:  সরকার পক্ষের কুশিলবরা মনে করছেন সমর্থন প্রত্যাহার নিয়ে আবার ভাবনা চিন্তা করবে ডিএমকে।

১২.১৭: শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে সক্রিয় প্রস্তাব পাশের দাবি এআইডিএমকের।  

১২.১৪: অচল হল রাজ্যসভা। দুপুর দুটো অবধি অধিবেশন মুলতবি।

১১.৫৭: এনসিপি নেতা প্রফুল প্যাটেল বলেন, "তামিল নাগরিকদের বিষয়ে আমরাও চিন্তিত। সংসদে প্রস্তাব আনলে, ডিএমকে বিষয়টি নিয়ে ভাববার সুযোগ পাবে।"

১১.৫০: পি চিদাম্বরমের কথায়, "সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও ভাবনাচিন্তা করবে ডিএমকে।" তিনি আরও বলেন, "করুণানিধির মতো প্রবীণ নেতার মতামতকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি।"

১১.৪৮: সরকার এখনই পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বললেন চিদাম্বরম।

১১.৪৪: শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠকের পথে ইউপিএ।

১১.১৯: ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করছে ডিএমকে, জানালেন করুণানিধি। বাইরে থেকে সমর্থনেরও পক্ষপাতী নন ডিএমকে প্রধান। সরকার কিছুই করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।