এফডিআই: শেষ ভরসা সর্বদল আজ

Update: November 26, 2012 09:25 IST

আজ এফডিআই নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে শরিক ডিএমকে-কে পাশে পেতে চেষ্টার কসুর রাখেনি কংগ্রেস। চেন্নাই গিয়ে করুণানিধির সঙ্গে বৈঠক করেন গুলাম নবি আজাদ। কিন্তু, তাতেও মেলেনি পাশে থাকার আশ্বাস। 

অন্যদিকে টুজি কাণ্ডে সিএজি রিপোর্ট নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানালো ডিএমকে। একশো তিরানব্বই ধারায় আলোচনার দাবি জানিয়ে নোটিস দিল তারা। আজ একথা জানিয়েছেন ডিএমকে সাংসদ টি আর বালু। ডিএমকে-র নোটিস নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাতে রাজি নয় কংগ্রেস। তবে এফডিআই নিয়ে তারা যে সরকারের পাশে নেই গতকালই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডিএমকে প্রধান করুণানিধি।

এনিয়ে সংসদে ভোটাভুটি হলে বিপক্ষে ভোট দেওয়ার হুমকি এর আগেই দিয়েছে ডিএমকে। তামিলনাড়ু রাজ্য রাজনীতিতে তাদের মূল প্রতিপক্ষ জয়ললিতার এআইএডিএমকেও এই ইস্যুতে একই নৌকোয় সওয়ার। এফডিআইয়ের বিরোধিতা করে ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বামেরাও বরাবর এফডিআইয়ের বিরুদ্ধে। ভোটাভুটি হবে এটা ধরে নিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমে পড়েছেন কংগ্রেসের ক্রাইসিস ম্যানেজাররা। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

এফডিআই নিয়ে তৃণমূলের আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেছে। কিন্তু, তারপরও ইউপিএ সরকারের অস্বস্তি কমার কোনও লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

এফডিআই ইস্যুতে আলোচনা ও ভোটাভুটির দাবিতে অনড় বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের লাগাতার আক্রমণ তো রয়েছেই। পাশপাশি সামলাতে হচ্ছে শরিকদেরও। তৃণমূল ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর অন্যতম শরিক ডিএমকে যাতে তাঁদের পাশে থাকে, সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। রবিবার চেন্নাইয়ে ডিএমকে প্রধান করুণানিধির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। তবে সেই বৈঠকেরও নিট ফল ছিল শূন্য। করুণানিধির কাছ থেকে এফডিআই ইস্যুতে পাশে থাকার আশ্বাস জোগাড়ে ব্যর্থ কংগ্রেস।

প্রয়োজনীয় সংখ্যা হাতে না নিয়ে সরকার ভোটাভুটির পথে আদৌ পা বাড়াবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিরোধীদের সামলে সংসদ সচল রাখা আর সরকারের মুখরক্ষা, দুটো কাজ একসঙ্গে করতে সর্বদল বৈঠকের শরণাপন্ন প্রধানমন্ত্রী।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।