ব্যাঙ্কে গুলি চালনার ঘটনায় ধোঁয়াশা

Update: December 8, 2012 20:42 IST

ভবানীপুরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের গুলিকাণ্ডে ধোঁয়াশা কিছুতেই কাটছে না। শুধুমাত্র উত্যক্ত করার জন্য আক্রোশের বশে সুনীল সরকার ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার এবং অন্য নিরাপত্তারক্ষীকে যে খুন করতে পারে, তা মানতে নারাজ তদন্তকারী অফিসারেরা। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে, এমনই অনুমান তাঁদের।  
ভবানীপুরের ব্যাঙ্কে গুলিকাণ্ডে ধৃত নিরাপত্তারক্ষী সুনীল সরকার পুলিসকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্যক্ত করতেন ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার মানব বসু  এবং তাঁর সহকর্মী অন্য নিরাপত্তাকর্মী রাধাকৃষ্ণ মণ্ডল। ধৈর্য্য হারিয়ে আক্রোশ থেকেই ওই দুজনকে খুন করেছে বলে জানিয়েছে সে। কিন্তু সুনীলের এই যুক্তি মানতে নারাজ পুলিস। যে কায়দায় সুনীল দুজনকে খুন করেছে, তাতেই ধন্দ বাড়ছে। 

ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার মানব বসু এবং অন্য নিরাপত্তাকর্মী রাধাকৃষ্ণ মণ্ডলকে দুটি করে গুলি করে সুনীল। তদন্তকারী অফিসারদের মতে, মৃত্যু নিশ্চিত করতেই মোট চারটে গুলি করেছিল সে। শুধুমাত্র উত্যক্ত করার জন্যই এমন জিঘাংসা, এই যুক্তি মানতে নারাজ তাঁরা। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে বলে তাঁদের অনুমান। সেকারণে সুনীলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার জন্য শনিবার আলিপুর আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। আবেদন মঞ্জুর করে সুনীল সরকারকে বিশে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা মেনে নিতে পারছেন না ব্যাঙ্কের কর্মী থেকে অভিযুক্ত এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবারের ঘটনার পর আজ বন্ধ ছিল ওই রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের ভবানীপুর শাখা। ভবানীপুর শাখার কাজকর্ম চালানো হয় কালীঘাট শাখায়।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।