পোশাকি প্রেম

Update: February 10, 2013 20:07 IST

এই সপ্তাহেই ভ্যালেন্টাইন ডে। প্ল্যানিং শেষ। কোথায়, কখন কীভাবে কাটাবেন এবারের প্রেম দিবসে সবটাই ঠিক। শুধু ঠিক হয়নি পোশাক। কী পোশাকে, ঠিক কেমনভাবে সাজাবেন নিজেকে ভেবে ভেবেই রাত কাবার। প্রেম দিবসের প্রচলিত লাল পোশাক নাকি অন্যরকম কিছু, সনাতনি শাড়ি নাকি সাহসী কোনও পোশাক....ধুত্, বেশি ভাবলে বেশি মুশকিল। তার থেকে বরং ভাবুন কীভাবে সেই দিনটাকে করে তুলবেন বাকি দিনগুলোর থেকে এক্কেবারে আলাদা, একেবারে নিজস্ব। পোশাকের ব্যাপারটা ছেড়ে দিন আমাদের ওপর।

পোশাক বাছার সময় মাথায় রাখুন আপনার প্ল্যান। যদি সারাদিনের জন্য বেরনোর পরিকল্পনা থাকে তাহলে অবশ্যই ক্যাজুয়াল পোশাকেই মনোনিবেশ করুন। যদি রাতে রোম্যান্টিক ডিনারে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে তাহলে শাড়ি পরতে পারেন। আর যদি নাইট আউটের কথা ভেবে রাখেন তাহলে সবথেকে উপযোগী শর্ট ড্রেস। তবে সবটাই বাছতে হবে নিজের চেহারা ও সেদিনের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ঝলমলে রোদ, হালকা শীত, বসন্তের আগমনী বার্তা ও সর্বোপরি প্রেমকে মাথায় রেখে অনুজ্জ্বল রং এ দিন এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। সুন্দর রঙে নিজেকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলুন।

প্রেম মানেই প্যাশন। আর তাই ভ্যালেন্টাইনস ডে-র রং বললেই মাথায় আসে লাল। যদি আপনার পছন্দের তালিকায় লাল থাকে তাহলে অবশ্যই লাল পরতে পারেন। সারাদিন ঘোরাঘুরি বা লং ড্রাইভে যেতে হলে জিন্সের সঙ্গে লাল হাইনেক পুলোভারের কোনও তুলনা নেই। যদি ঠান্ডা কম থাকে তাহলে সাদা বা হাল্কা রঙের কোনও টপের ওপর জরিয়ে নিতে পারেন লাল স্কার্ফ। শীতের কমবেশি তারতম্য অনুযায়ী লাল স্টোলও ব্যবহার করতে পারেন। যদি আপনার চেহারা মেদহীন হয় তাহলে সাদা ফলিং শোল্ডার টপের কাঁধ থেকে উঁকি মারতে পারে লাল লঁজারি। তবে ভ্যালেন্টাইনস ডে বলে শুধু লালেই আটকে থাকবনে না। যে কোনও উজ্জ্বল রংই এই সময়ের জন্য এবং প্রেমের জন্য ভাল। পছন্দ মতো হালকা গোলাপি, উজ্জ্বল হলুদ, পার্পল, সুন্দর নীল যে কোনও রঙের পোশাকই আপনি পরতে পারেন। তার সঙ্গে মানানসই জুতো, ব্যাগ, অ্যাক্সেসরিজ নিলেই সাজ সম্পূর্ণ। সারাদিনের ব্যাপার বলে মেকআপ কিন্তু হবে হালকা। ভ্যালেন্টাইনস ডে বলে একগাদা মেকআপ করে ফেললে কিন্তু পুরো সাজটাই মাটি। মূলত গাঢ় কাজল আর ন্যুড, গোলাপি বা হালকা বাদামি লিপগ্লসেই শেষ করুন সাজ।

যদি দু`জনে শুধু সন্ধেবেলা রোম্যান্টিক ডিনারে যাওয়ার কথা ভাবেন তাহলে শাড়িই হবে সেরা পোশাক। হালকা সিফন এদিনের জন্য দারুন। আর সেখানেও লাল সিফনের কোনও তুলনা নেই। ব্লাউজ কিন্তু লাল হলে চলবে না। লালের শেড বুঝে কনট্রাস্ট করে ব্লাউজ বাছলেই কেল্লাফতে! ফিগার সুন্দর হলে সাহসী ব্লাউজ পরতে এ দিন আর দ্বিতীয় বার ভাবনেন না। হল্টার, স্লিভলেস, বড় কাটা পিঠের ব্লাইজ যে কোনও রকমই চলবে। লাল ছাড়াও হালকা গোলাপি বা হালকা হলুদ সিফনও খুব ভাল যাবে। এই সময় কিন্তু মেকআপ একটু গাঢ় করতেই পারেন। চোখের মেকআপ হালকায় নামিয়ে এনে ঠোঁটে লাগাতে পারেন ভ্যালেন্টাইন অর্থাত্ উজ্জ্বল লাল লিপগ্লস।

ক্লাব বা পাবে নাইট আউটে যেতে হলে সবাইকে পিছনে ফেলে দেবে লাল শর্ট ড্রেস। চেহারা অনুযায়ী অবশ্যই ড্রেসের লেংথ ও কাট পরিবর্তন হবে। লাল যদি পরতে না চান তাহলে সর্বকালীন কালোতো আছেই। তবে এ দিন পুরো কালো না পরে লাল সরু বেল্ট, লাল স্কার্ফ বা শ্রাগ দিয়ে কালো পোশাক সাজিয়ে নিলে অনেক বেশি আকর্ষনীয় লাগবে। অনেক পার্লারে ভ্যালেন্টাইনস ডে মেকওভারও করানো হয়। পকেট পারমিট করলে পার্লারে গিয়ে করিয়ে নিতে পারেন নতুন কোনও হেয়ার কাট বা হেয়ার স্টাইলিং। মনে রাখবেন এত সবকিছুর উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই। দেখতে সুন্দর লাগা। কাজেই বিশেষ দিন বলে সারাবছর যা কস্মিনকালেও ভাবতে পারনে না তেমন কিছু একটা সেজে ফেললেন সেটা যেন কখনই না হয়। তাহলে কিন্তু প্রেম দিবসের পুরো আনন্দটাই মাটি। মনে রাখবেন, আপনার ভালবাসার মানুষটি কিন্তু প্রতিদিনের আপনারই প্রেমে পড়েছেন, কোনও বিশেষ আপনার নয়...

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।