আদরের ওড়না

Update: October 17, 2012 17:23 IST

`হোশ ওয়ালো কো খবর ক্যায়া, বেখুদি ক্যায়া চিজ হ্যায়...` মনে পড়ে সরফরোশ ছবির সেই অমর গানের দৃশ্য? সোনালি বেন্দ্রের গোলাপি ওড়নার প্রেমেই পাগল হয়েছিলেন সাহসী পুলিস অফিসার। বা হেল্লো ব্রাদার ছবির রানি মুখার্জির সেই হলুদ ওড়না? যার প্রেমে পাগল পাগল দশা হয়েছিল সলমন খানের? শুধু রপোলি পর্দায় নয়। বাস্তবঘাঁটলেও ওড়নায় মন মজে প্রেমের সূত্রপাতের উদাহরণ মিলবে কাঁড়ি কাঁড়ি। ওড়না জিনিসটাই এমন। লজ্জা ঢাকার প্রয়োজনে ওড়নার আবির্ভাব হলেও সে তার সহজাত গুণে ছাপিয়ে গিয়েছে নিজেকেই। সালোয়ার-কমিজের সঙ্গে শুধু সঙ্গত করাই নয়, আজ ওড়না অন্যতম হেপ অ্যাক্সেসরিজ। এই পুজোতেও ফ্যাশন ট্রেন্ড জুড়ে ওড়নারই মনোপলি।

সারা বছর ককটেল ড্রেস আর জিনসে মন মজে থাকলেও পুজোর সময়ে ভারতীয় হতে চান সবাই। শাড়ি পরার ঝক্কি নিতে না চাইলে বিকল্পের সন্ধানে এবারের পুজোর শীর্ষ আসনে বিরাজ করছে লম্বা ঘেরের আনারকলি। সঙ্গে অবশ্যই জমকালো কাজের ভারী ওড়না। আর যদি কাজের চাপে পুজোর শপিংটাও ঠিকঠাক সারা না হয়ে ওঠে তাহলে পুরনো কামিজের ওপরেই চাপিয়ে নেওয়া যেতে পারে নতুন ডিজাইনার ওড়না। নেট, শিফন, ব্রোকেড, সিল্ক, সুতি, বাঁধনি যে কোনও ফ্যাব্রিকসের এক রং বা কাজ করা ওড়না, তুড়ি মেরে পুরনো জামাকে করে দিতে পারে নতুন।
তথাকথিত ওয়েস্টার্ন ড্রেসে স্বচ্ছন্দ তন্বীদেরও ওড়না বঞ্চিত করে না তার ভালবাসা থেকে। জিনস-কুর্তি, লং স্কার্ট-টপ, হ্যারেম প্যান্ট-স্প্যাগেটি যে কোনও কম্বিনেশনকেই ওড়নার উদারতা দিতে পারে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন বোহেমিয়ান একটা লুক। শুধু গলায় কেন‌? মাথায় জড়িয়ে করে নিতে পারেন পাগড়িও। গাঁটের কড়ি খরচা না করেও শুধু একটু বুদ্ধি আর পরিশ্রমের খরচেই নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন এইসব চমকদার চুনরি। পুরনো শাড়ির আঁচল কেটে আরামসে বানিয়ে ফেলা যায় অসাধরণ সব চুনরি। শাড়ির জমি কেটে নিয়ে অন্য শাড়ির পাড়, পুরনো কানের দুল বা ব্রোচ বসিয়েও মুহূর্তে হয়ে যাবে অসাধারণ সব দোপাট্টা। এমনকী, চাইলে পুরনো ওড়নাকে রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে নতুনও করে নিতে পারেন। পছন্দ মত রঙে টাই অ্যান্ড ডাই করে স্টোন, চুমকি, জমকালো পাড় বা সেলাই-ফোঁড়াইয়ে বিশেষ দক্ষতা থাকলে করে নিতে পারেন এমব্রয়ডারিও। ব্যাস। ডিজাইনার বুটিক, দোকান, দর্জির দরবার কোনও কিছু ছাড়াই আপনার ওড়না সমস্যা সমাধান। এবারে জাস্ট জামাকাপড়ের সঙ্গে ঠিকঠাক পরে ফেলতে পারলেই কেল্লা ফতে!

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।