ডার্বির আগে আই লিগ শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল

Update: February 2, 2013 16:56 IST

ইস্টবেঙ্গল (২) পৈলান অ্যারোজ (১)

কল্যানী স্টেডিয়ামে পৈলান অ্যারোজের বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও তিন পয়েন্ট নিয়ে এল ইস্টবেঙ্গল। সেই সঙ্গে আই লিগে চার্চিল ব্রাদার্সের টপকে পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরে উঠে এল মরগ্যানের দল। ডার্বি ম্যাচের আগে মনোবল বাড়ানোর এক বাড়তি টনিকে পেয়ে গেলেন মরগ্যান। আই লিগে এখন শীর্ষে থাকা ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট ১৯ ম্যাচে ৩৯। দু ম্যাচ কম খেলে চার্চিল ব্রাদার্সের পয়েন্ট ৩৮। তবে ৯ ফেব্রুয়ারি মোহনবাগান ম্যাচের আগে কার্ড দেখা চলবে না ইস্টবেঙ্গল কোচের এহেন আদেশ কাজে এল না। লাল কার্ড দেখে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠের বাইরে যান মননদীপ সিং। হলুদ কার্ড দেখেন সঞ্জু প্রধান, নওবা সিং।

এদিন শুরুতেই ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের ভুল বোঝাবুঝিতে গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল। চকিতে গোল করে যান পৈলান অ্যারোজ থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া অলউইন জর্জ। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে চিড্ডিকে নিজেদের বক্সে ফেলে দেওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন পৈলান গোলরক্ষক। পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি চিড্ডি। এরপর ম্যাচের রাশ ইস্টবেঙ্গলের দখলে চলে যাওয়ায় আর্থার পাপাসের দল হারিয়ে যেতে থাকে ম্যাচ থেকে।বত্রিশ মিনিটে চিড্ডির পাশ থেকে ডিকার গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সুবোধকুমার-কেভিন লোবো সমৃদ্ধ মাঝমাঠকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে দেয় পৈলান অ্যারোজ।

পাপাসের স্ট্র্যাটেজি যখন ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে,তখন বাধ্য হয়েই তিনটি করে হলুদ কার্ড থাকা পেন ও মেহতাবকে নামাতে বাধ্য হন মরগ্যান। বহু প্রত্যাশা তৈরি করে লাল হলুদ জার্সি পড়া নতুন বিদেশি আন্দ্রে বোরিসিচ এদিন নজর কাড়তে ব্যর্থ। ইতিমধ্যেই তিনটি ম্যাচ খেলে ফেললেন বোরিসিচ। কিন্তু তাঁর পারফরম্যান্স কোচ থেকে সমর্থক প্রত্যেকেরই চিন্তা বাড়াচ্ছে বড় ম্যাচের আগে। তেমনি বড় ম্যাচের আগে মননদীপ লাল কার্ড দেখায়, আক্রমণভাগে মরগ্যানের চিন্তা বাড়াল। তবে ডার্বির আগে জয় পেয়ে লিগশীর্ষে চলে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ইস্টবেঙ্গল।
 
ইস্টবেঙ্গল--
অভিজিত্‍ মন্ডল, উগা ওপারা, নওবা সিং, গুরবিন্দর সিং, সৌমিক দে, সঞ্জু প্রধান, লালরানডিকা, লোবো, সুবোধ কুমার (মেহতাব), এডে চিডি, বোরোসিচ (মননদীপ)।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।