এগিয়ে থেকেও ডেম্পো বধের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া ইস্টবেঙ্গলের

Update: November 3, 2012 16:16 IST

ইস্টবেঙ্গল (১) ডেম্পো (১)
ভারতীয় ফুটবলের এল ক্লাসিকো শেষ হল অমীমাংসিতভাবে। ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও গতবারের চ্যাম্পিয়ন ডেম্পোকে হারাতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। আই লিগের মেগাম্যাচ শেষ অবধি ১-১ গোলে ড্র হল। দশ সেকেন্ড মনোসংযমের অভাবের খেসারত দিতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। দু পয়েন্ট মাঠেই রেখে এল তারা। পাঁচবারের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন ডেম্পোর বিরুদ্ধে শুরুটা দুরন্ত করেছিল লাল-হলুদ শিবির। ফেডারেশন কাপের ফাইনালের পর শনিবার যুবভারতীতে আই লিগেও বাংলার মশালে হাত পুড়তো গোয়ার গর্বের ক্লাবের, কিন্তু লাল হলুদ ফুটবলারদের সামান্য ভুলে কলকাতা থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে যাচ্ছে আর্মান্দো কোলাসোর দল। সারা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল আধিপত্য নিয়ে খেলেছে এমন কথা বলা যাবে না, ডেম্পো সুযোগও তৈরি করেছে প্রচুর। কিন্তু ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও ডেম্পোর মত সাম্প্রতিক ভারতীয় ফুটবলের সফলতম ক্লাবকে হারাতে না পারাটা আফশোসের হয়ে থাকবে লাল হলুদ শিবিরের কাছে। পাঁচবারের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন ডেম্পোর বিরুদ্ধে শুরুটা দুরন্ত করেছিল লাল-হলুদ শিবির। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন চিড্ডি। মাঝমাঠে মেহতাব-পেনদের আটকাতে কার্যত হিমসিম খেতে হচ্ছিল ক্লাইম্যাক্সদের। চিড্ডিদের গোলমিসে সেই ব্যবধান আর বাড়েনি। প্রথমার্ধের চিত্রটা অবশ্য বদলাল দ্বিতীয়ার্ধে।ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করল গোয়ায় দলটি। আক্রমণের ঝাঁঝও বাড়াতে শুরু করল ডেম্পো। নিশ্চিত একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় গোয়ার দলটি। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভুল থেকে গোল করে যান পিটার কার্ভালহো। ঘরের মাঠে ডেম্পোকে হারিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে চলে যাওযার সুযোগ ছিল মরগ্যানের দলের সামনে। কিন্তু ডেম্পোর সঙ্গে ম্যাচ ড্র হওযার ফলে চার ম্যাচে আট পয়েন্ট ম্যাচে সেই লক্ষ্যে পৌঁছল হল না লাল-হলুদ শিবিরের।

চার ম্যাচ পর আই লিগের পয়েন্ট তালিকায় ডেম্পো এখন সবার আগে। কোলাসোর দলের পয়েন্ট এখন ১০। সমসংখ্যাক ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট ৮। মরগ্যানের দল এখন তিন নম্বরে।
মেগা ম্যাচের তাল কাটলেন রেফারি: আই লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভিলেন হয়ে রইলেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে ডেম্পোর সুয়েকাকে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডার সৌমিক দে বক্সে ফেলে দিলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি। ম্যাচের পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ডেম্পো কোচ। আর্মান্দো ডেম্পোর পেনাল্টি পাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও, পেনাল্টি না দেওয়ার জন্য ডেম্পো ফুটবলাররা যেভাবে রেফারিকে ধাক্কাধাক্কি করেন,তার জন্য লালকার্ড দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন মরগ্যান। যদিও এই নিয়ে দু'দলই সরকারিভাবে কোনও অভিযোগ জানাচ্ছে না।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।