আদর্শ কেলেঙ্কারি মামলার জালে অশোক চহ্বান

Update: April 30, 2012 16:57 IST

আদর্শ সোসাইটি কেলেঙ্কারির ফাঁস ক্রমশই চেপে বসছে অশোক চহ্বানের গলায়! সিবিআই-এর পর এবার কারগিল যুদ্ধের বীর সেনানী এবং শহিদ পরিবারগুলির নামে নির্মীত মুম্বইয়ের এই বহুতলে ফ্ল্যাট বণ্টন দুর্নীতিকাণ্ড নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তরফে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চহ্বান-সহ মোট ১৪ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে এই মামলায়।

সোমবার বম্বে কোর্টে হাজির হয়ে ইডি`র আইনজীবী আর ভি দেশাই জানান, গত ৫ মার্চ আদর্শ কাণ্ডের আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তকারী দলের পেশ করা `এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট`-এর ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইনের ৩ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ আদর্শ কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্ট মুম্বই হাইকোর্টে পেশ করে সিবিআই ও এনফোসর্মেন্ট দফতর। ইতিমধ্যেই ওই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করেছে সিবিআই। এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চহ্বাণ-সহ সেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই মামলা করল ইডি।

মুম্বইয়ের কোলবায় আদর্শ হাউসিং সোসাইটি`তে ফ্ল্যাট বণ্টন সংক্রান্ত অনিয়মের পিছনে আর্থিক দুর্নীতির তথ্য জানতে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন দুই সমাজকর্মী-প্রবীণ ওয়াতেগাঁওকর এবং সম্প্রিত সিং। এদিন বিচারপতি এস এ বোবাডে এবং বিচারপতি মৃদুলা ভাটকরকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের সামনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ব্যাপারে তথ্য প্রদান করা হয় ইডি`র তরফে।

অশোক চহ্বান ছাড়া ইডি`র মামলায় অন্য অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন, আদর্শ সোসাইটি`র সম্পাদক আর সি ঠাকুর, ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এম এম ওয়াংচু, কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধান পরিষদ সদস্য কানাইলাল গিদওয়ানি ও অবসরপ্রাপ্ত আমলা প্রদীপ ব্যাস। আদর্শ কাণ্ডে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ৯ অভিযুক্ত। এই তালিকায় রয়েছেন ৩ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল, এ আর কুমার, টি কে কল এবং দুই প্রাক্তন আইএএস জয়রাজ পাঠক ও রামচাঁদ তিওয়ারির নাম। ইডি-র তালিকাতেও ঠাঁই পেয়েছেন এঁরা।

প্রাক্তন সেনাদের জন্য ৩১ তলা আদর্শ আবাসন তৈরি করা হলেও নিজেদের আত্মীয়দের তা বিধি বহির্ভূতভাবে পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চহ্বান-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। আদর্শ আবাসন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার কারণেই ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল অশোক চহ্বানকে। উল্লেখ্য, ১৯৭০ সাল থেকেই কোলবার আদর্শ আবাসন প্লট নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকার ও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। শেষ পর্যন্ত নব্বইয়ের দশকের শেষে ওই জমিতে একটি বহুতল নির্মাণের বিষয়ে দু`তরফের সমঝোতা হয়।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।