ইডেনে কালকের ভারত-পাক ম্যাচ গাইড

ইডেনে কালকের ভারত-পাক ম্যাচ গাইড

ইডেনে কালকের ভারত-পাক ম্যাচ গাইডগোটা রাজ্য এখন ক্রিকেট জ্বরে ভুগছে। কাল, বৃহস্পতিবার ইডেন উদ্যানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কলকাতা এখন সাজো সাজো রব। শহর জুড়ে টিকেটের হাহাকার। ইডেনে এটা ২৭ তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। হিসাব অনুযায়ী একদিনের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইডেনে ধোনি বনাম মিসবাদের লড়াইটাকে কিছুতেই শুধু একটা ওয়ানডে ম্যাচ হিসাবে বললে ভুল হবে। তাত্‍পর্যের দিক থেকে এই ম্যাচটা অনেকটা আলাদা। এত কিছুর পরেও যদি আপনার ক্রিকেট জ্বর না আসে, এখনও যদি ভাবেন, ধুত্‍ এটা তো সারা বছর ধরে চলা আরও একটা ক্রিকেট ম্যাচ। তাহলে একটু চোখ বুলিয়ে নিন কালকের ম্যাচটা কেন দেখবেন, আপডেট জানতে কেন ২৪ ঘণ্টা ডট কমে চোখ রাখবেন---

রজত জয়ন্তীতে ইডেনে ভারত-পাক ম্যাচ-- ১৯৮৭ সালে ইডেনে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। সেই হিসাবে ইডেনে ওয়ানডে ম্যাচের সিলভার জুবলি। ১৯৮৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির সেই ম্যাচে একসঙ্গে অনেক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছিল। শ্রীকান্তের ১০৩ বলে ১২৩ রানের ঝড়, সেলিম মালিকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন আর ভারতের জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হওয়া সবই ছিল সেই ম্যাচে। ২৫ বছর পর আবার ইডেনে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি। ইতিহাস যদি আপনাকে ভালবাসতে শেখায়, ভাবতে শেখায়, তাহলে কাল ধোনি বনাম মিসবাদের ম্যাচ দেখার ভাল একটা কারণ থাকছে।


মেকওভারের পর-- বিশ্বকাপের ম্যাচ হাতছাড়া করার পর মনটা বড্ড খারাপ ইডেনের। আসলে দারুণ নতুন বউ সাজার পরও ‍যদি কনে জানতে পারে বিয়েটা বাতিল হয়ে গেছে তাহলে যেমন হয়, ইডেনের এখন ঠিক সেই অবস্থা। মেকওভারের পর ইডেনে ভারত মাত্র একটাই ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিশ্বকাপের মত বড় মাপের প্রতিযোগিতায় ভারতের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মত দগদগে ঘায়ের জ্বালা মেটাতে ওই ম্যাচটা যথেষ্ট ছিল না। কালকের ম্যাচটা সেই ক্ষতে প্রলেপ দেবে।

নতুন বছর নতুন শুরু-
- ২০১২ সালটা একেবারে দুঃস্বপ্নের মত গেছে ভারতীয় ক্রিকেটের কাছে। নতুন বছরে ভারতের এটাই প্রথম ম্যাচ। কথায় বলে শুরুটাই নাকি বলে দেয় বাকি বছরটা কেমন যাবে। তাই ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যত জানতে চোখ রাখুন কালকের ম্যাচে।

ইডেনে অপরাজিত পাকিস্তান-- বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচে ভারত হারে না, আর ইডেনে নাকি পাকিস্তান হারে না। এমন একটা মিথ চালু হয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত ইডেনে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচেও হারেনি পাকিস্তান। ওয়ানডেতে ইডেনে মোট তিনবার ভারতের বিরুদ্ধে খেলে পাকিস্তান। তিনবারই জেতে পাকিস্তান। শেষবার স্বর্গোদ্যানে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয় ২০০৪, নভেম্বরে। সেই ম্যাচে ভারতকে প্রায় একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন ওপেনার সলমন বাট। এমনকী একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলেও জয় পায় পড়শিরা। এবার সেই চাকা বদলাবে কি! তাহলে ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের আরও একটা কারণ থাকছে। ‍

দুই বাঙালি--
অশোক দিন্দা, সামি আমেদ। একসঙ্গে দুই বাঙালি ভারতীয় দলে আছেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-এর অবসরের পর বাঙালি আবেগ বড্ড বেশি থাকায় ক্রিকেট নিয়ে যদি উত্‍সাহ হারিয়ে ফেলেন, তাহলে ইডেনে কালকের ম্যাচ দেখার বড় একটা কারণ থাকছে। অবশ্য সামিকে কাল রিজার্ভ বেঞ্চে বসতে হবে। তাতেও অবশ্য কিছু এসে যাবে না, কারণ ঘরের মাটিতে বঙ্গসন্তানকে দেখতে অভ্যস্ত নয়। 

ধোনির অগ্নিপরীক্ষা--
কাল ইডেনে মিসবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচে হারলেই সিরিজ খোয়াবে ভারত। বিদেশের মাটিতে পরপর আট টেস্টে হার, ইংল্যান্ডের কাছে ঘরের মাটে টেস্ট সিরিজ হার, নিদেনপক্ষে টি টোয়েন্টি সিরিজেও জিততে না পারা। এমন একটা সময়ে পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হারটা অধিনায়ক ব্যর্থতার ঝুলিটা পূর্ণ করে দেবে। আমেদাবাদে যতই দুরন্ত শতরান করুন ইডেনে কাল হারলেই অধিনায়ক ধোনির সিংহাসনচুত্য হওয়ার পথটা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই ধোনির অগ্নপরীক্ষাটা কালকের ম্যাচের বড় ইউএসপি।

সচিন অবসরের পর ইডেনে প্রথম ওয়ানডে --- সচিনের ওয়ানডে অবসরের পর ইডেন এই প্রথম নামছে ভারত। ওয়ানডে-এর ইডেন আর সচিন এই দুটো কথা এই এতগুলো বছরে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে কোথাও একটা হাহাকার আছে। ইডেনে হিরো কাপের ফাইনালে সচিনের সেই উচ্ছ্বাসের ছবিটা তো আজও ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা বিজ্ঞাপন।


সাতফুটিয়া আর পাক বোলিং-- শোয়েব আখতার নেই, তবু পাকিস্তানের পেস বোলারদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি সবার আগে চোখ কাড়বেন। তিনি সাত ফুট এক ইঞ্চির মহম্মদ ইরফানকে নিয়ে আগ্রহের প্যারামিটারটা বেশ চড়া। আর ইরফান ভয় পাচ্ছেন দরজা দিয়ে ঢোকার সময়৷ ইডেনে ঢেকার মুখে বেশ উঁচু কাচের দরজাতেও তাঁর মাথা ঠুকে যাওয়ার উপক্রম ! সতর্ক হয়ে নীচু করে নিচ্ছেন৷ এখানে তাও বাঁচোয়া দরজা বেশ উঁচু৷ সমস্যা বেশি ড্রেসিংরুমের দরজা নিয়ে৷ সেটা আরও নীচু৷ তাই বেশ খানিকটা ঝুঁকে পেরোচ্ছেন সেই দরজা৷ সেই ইরফানই কাল ধোনিদের যমদূত। সঙ্গে থাকছেন উমর গুল আর গত বছরের সেরা স্পিনার সঈদ আজমল।












First Published: Wednesday, January 02, 2013, 23:19


comments powered by Disqus