নাগপুরের নাগপাশে আটকে সিরিজ হারল ভারত

Update: December 17, 2012 16:07 IST

ইংল্যান্ড: ৩৩০, ৩৫২/৪। ভারত: ৩৩০/৯ (ডি:)
নাগপুরে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটল না। সিরিজের শেষ টেস্টের শেষ দিনে প্রাণহীন ড্র হয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে এল একটা লজ্জার একটা দিন। ভারতীয়রা ঘরের মাঠে বাঘ এই প্রবাদ বাক্যটাকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে ২৮ বছর পর ভারত থেকে সিরিজ জিতে নিয়ে ফিরছে ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে এই টেস্ট সিরিজ ১-২ ব্যবধানে হেরে একসঙ্গে অনেক  
লজ্জার ঘটনা ঘটে গেল। সেইগুলোকে সংখ্যার আকারে পরপর রাখলে দাঁড়ায়--১) ২০০৪ এরপর ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হারতে হল ভারতকে, ২) অধিনায়ক হওয়ার পর দেশের মাটিতে এই প্রথম সিরিজ খোয়ানোর বিস্বাদ পেলেন ধোনি, ৩) বদলার সিরিজ নামে যাকে ডাকা হচ্ছিল সেই সিরিজ প্রমাণ করে দিল ভারতীয় ক্রিকেটে এখন বদল দরকার। এর আগে ১৯৮৪-৮৫ সালে ডেভিড গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দল ভারতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল।

সিরিজে সমতায় ফিরে আসতে হলে আজ ভারতীয় বোলারদের অভাবনীয় কিছু করতে হত। কিন্তু ট্রট আর বেল যাদের সেভাবে সিরিজে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই দুই ব্যাটসম্যানের জোড়া শতরানে ভারতীয়রা আটকে গেলেন। ট্রটের ১৪৩ রান আর অপরাজিত ১১৬ রানের বেলের ইনিংস দুটো এদিন ভারতীয়দের সিরিজ হারের রাস্তা পাকা করে দেয়। কথায় বলে সব ভাল যার শেষ ভাল তার। নাগপুরে তাই হল শেষটা ছবির মত পারফেক্ট হল কুকদের।
চার স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমেও ভারতীয় বোলিংয়ে অসহায় লাগল। আসলে প্রথম দিন থেকে নাগপুরের পিচের ধোঁয়াশায় যাকে অনেকেই নাগপাশ বলছেন তাতেই আটকে গেল ভারতীয়রা। স্পিনারদের হানিমুনস্পট হবে অনুমান করে মাত্র এক পেসার নিয়ে খেলতে নামার সিদ্ধান্তটাই ভিলেন হয়ে দাঁড়াল। অবশ্য ভারতীয়দের এই সিরিজ হারে ভিলেনের সংখ্যা এত বেশি যে সেগুলো সব লিখতে বসলে জায়গার অভাব হয়ে দাঁড়াবে। শুধু নাগপুর টেস্টে হিসাবে করলে দাঁড়ায়-ভুল দল নিয়ে খেলতে নামা, সিরিজ হারের মুখে দাঁড়িয়েও ধীরগতির ব্যাটিং আর বোলারদের ব্যর্থতা। 

ম্যান অফ দ্য সিরিজ হয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিয়েস্টার কুক এবং ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন। এই সিরিজে আমদাবেদ প্রথম টেস্ট হারলেও মুম্বইতে দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় কুক বাহিনী। ইডেনেও যাঁদের সামনে প্রায় খড়কুটোর মতো উড়ে যায় ধোনির দল।






Post Your Comment

Total Comments:2

বুড়ো শচীনকে আরো কিছুদিন টেনে নিয়ে যাওয়া দরকার। এই লোকটা বহুত তরুণের কপালে কাঁটা ফুটিয়েছেন। তাকে আরো কিছু দিন দলে রাখা যাক। আর ধোনির ক্রিকেট মেধা আছে কিনা তা ভারতবাসী না বুঝলেও ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি পাকিস্তানিরাও বোঝে।

sooti , lajjajanak ghotna.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।