এফডিআই ইস্যুতে আজ রাজ্যসভায় ভাগ্য পরীক্ষা কেন্দ্রের

Update: December 6, 2012 09:58 IST

গতকাল লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনের সবচাইতে বড় পরীক্ষাটা উতরে গেছে কেন্দ্রের ইউপিএ-২ সরকার। বিরোধীদের প্রস্তাব খারিজ করে এফডিআই ইস্যুতে জয় পেয়েছে কেন্দ্র। সৌজন্যে অবশ্যই 'সপা' আর 'বসপা'-র 'বন্ধুত্ব পূর্ণ' ওয়াকআউট। আজ রাজ্যসভায় খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ ইস্যুতে আবার যুদ্ধে নামল সরকার। ইতিমধ্যে থেকে রাজ্যসভার উচ্চকক্ষে এফডিআই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ভোটাভুটি হবে শুক্রবার। সরকারের চিন্তা বাড়িয়ে দিল সমাজবাদী পার্টি। বাজ্যসভায় সপা সরকারকে ভোট দেবে না বলে জানিয়ে দিলেন সপা নেতা নরেশ অগ্রবাল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন লোকসভার মত রাজ্যসভাতেও জয় পাবে সরকারই। 

তবে রাজ্যসভার উচ্চকক্ষে জয় পাওয়া মোটেও সহজ হবে না মনমোহন সরকারের পক্ষে। লোকসভার সঙ্গে রাজ্যসভার ছবিটার কিন্তু পার্থক্য বিস্তর। এখানে মোটেও কেন্দ্র সরকারের সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই। রাজ্যসভার ২২৫ টা আসনের মধ্যে ইউপিএর দখলে মাত্র ৯০টি আসন। বাইরে থেকে সপা, ভাসপা, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, লোকজনশক্তি দলের সমর্থন পেলে সরকারের পক্ষে মোট ১১৭টি আসন হতে পারে। কিন্তু রাজ্যসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে হলে প্রয়োজন অন্তত ১২৩টি আসন। অন্য দিকে বিরোধীরা এখনই ১১০ টি আসনের সমর্থন আছে বলে দাবি করেছেন। এরকম অবস্থায় সরকারকে রাজ্যসভার উচ্চকক্ষেও জয় পেতে তাকিয়ে থাকতে হবে স্বাধীন ও ছোট দলগুলির আসনের উপর।

গতকাল লোকসভায় এফডিআই ইস্যুতে বিরোধী দলনেত্রী সুষমা স্বরাজের আনা প্রস্তাবের পক্ষে ২১৮টি ভোট পড়ে। মনমোহন সিংয়ের সরকার ২৫৩টি ভোট পেয়েছে। চিত্রনাট্যে সাজানো টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটল খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ যুদ্ধে সরকারের জয়ের মধ্যে দিয়ে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়ের আনা ফেমা সংশোধনী প্রস্তাবও লোকসাভায় মুখ থুবড়ে পড়ে। এই ইস্যুতে মনমোহন সিং নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার যেখানে ২৫৪টি ভোট পেয়েছেন। সেখানে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়েছে ২২৪টি।

এই পরিণতির ইঙ্গিত ছিল আগেই। কংগ্রেসকে অক্সিজেন যোগাতে এফডিআই এর ভোটাভুটি থেকে শেষমুহূর্তে ওয়াক আউট করে বহুজন সামাজবাদী পার্টি। সংসদ থেকে বেরিয়ে আসেন সমাজবাদী পার্টির নেতারাও। ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার ঠিক আগে বিএসপি ও এসপি নেতারা একে একে ওয়াক আউট করেন। এই দুই সহযোগী দলের সরে আসার পর, কংগ্রেসের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে আর কোনও অসুবিধা থাকল না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।