এফডিআই নিয়ে বিতর্ক শুরু লোকসভায়

Update: December 4, 2012 16:59 IST

বিতর্ক আর হট্টোগোলে শুরু হল খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা। বিতর্কের শুরুতেই লোকসভার বিরোধী দলনেত্রী সুষমা স্বরাজ এফডিআই বিল পাশের জন্য ইউপিএ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। বিজেপির তরফে সুষমা স্বরাজ অভিযোগ করেন, এফডিআই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। লোকসাভায় বিজেপি দলনেত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, "গত শীতকালীন অধিবেশনে সরকার আশ্বস্ত করছিল এফডিআই নিয়ে সব দলের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।"

সংসদ কক্ষে উপস্থিত কংগ্রেস নেতৃত্বদের উদ্দেশ্যে সুষমা বলেন, "তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি আশ্বাস দেন এফডিআই বিল নিয়ে ঐক্যমত স্থাপন করা হবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কারও সঙ্গেই কথা বলা হয়নি।" দেশের অর্থনীতির চরম ক্ষতির আশঙ্কা জাহির করে বিরোধী দলনেত্রী আরও বলেন, "এফডিআই চালু হলে তাতে মনোপলি শুরু হয়ে যাবে।" তাতে আখেরে কৃষকদের ক্ষতি হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

অন্যদিকে এফডিআই বিতর্কে বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ আনল কংগ্রেস। লোকসভায় কপিল সিব্বল বলেন, একসময় এনডিএ মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় এফডিআইয়ের স্বপক্ষেই কথা বলেছিলেন। ২০০৪ সালে বিজেপিও খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকে সমর্থন করেছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, এফডিআই নিয়ে  অযথা জলঘোলা করছেন বিরোধীরা।
 
বুধবার এফডিআই ইস্যুতে ভোটাভুটি। তার আগে সরকারের অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে বিজেপির অবস্থান নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী কপিল সিব্বল। সিব্বল বলেন, ২০০৪-এ দলের ভিসন ডকুমেন্টে খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকে সমর্থন করেছিল বিজেপি। সেবছর ১২ এপ্রিল বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা মন্তব্য করেন, "খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের এজেন্ডার অংশ, আমরা এবিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনেকেই বলেছিলেন কেএফসি এসে ধাবাকে বাজার থেকে হটিয়ে দেবে। কিন্তু, ধাবাই কেএফসিকে হটিয়ে দিয়েছে।"

তাঁর যুক্তি, যাঁরা এখন খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা করছেন তাঁরাই একসময়ে আর্নেস্ট এন্ড ইয়ংকে ডেকে এনেছিলেন। কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রীর দাবি, বিদেশি বিনিয়োগ আসলে আদতে তা কৃষকদের অনুকুলেই যাবে। এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যের ১০ হাজার কৃষকদের থেকে সরাসরি আলু কিনছে পেপসিকো। কৃষকরা ৩ টাকার বদলে এখন প্রতিকেজি আলু ৭ টাকায় বিক্রি করছেন। কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রীর দাবি, ১০ লক্ষের উপর জনসংখ্যা রয়েছে দেশে সেরকম শহরের সংখ্যা মাত্র ৫৩। তারমধ্যেও বেশকয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এফডিআই চাননা। ফলে মাত্র ১৮টি শহরেই শেষপর্যন্ত এফডিআই লাগু করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে লোকসভায় এনিয়ে বিতর্ক অযৌক্তিক। সরকার ও বিরোধী, এফডিআই ইস্যুতে অস্ত্র শানাচ্ছে দুপক্ষই। বুধবার ভোটাভুটি। সংখ্যা নিয়ে বেশ কিছুটা আত্মবিশ্বাসী সরকারপক্ষ।








Post Your Comment

Total Comments:1

change this central govt....shame for dmk,bsp&sp

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।