স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থেকে ঝাঁপ দিতে চলেছেন `ফিয়ারলেস` ফেলিক্স

Update: October 9, 2012 09:26 IST

স্কাই ইজ দ্য লিমিট। প্রচলিত এই শব্দবন্ধটিকে আক্ষরিক অর্থেই সত্যি বলে প্রমাণ করতে আজ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থেকে ঝাঁপ দেবেন অস্ট্রিয়ার ফেলিক্স বমগার্টনার। ভূপৃষ্টের ৩৭ কিলোমিটার ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ার সময় তাঁর গতি ছাপিয়ে যাবে শব্দের গতিকেও। বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে ফিয়ারলেস ফেলিক্সের এই আকাশ-ঝাঁপ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে ইন্টারনেটে।      
৪৩ বছরের ফেলিক্স বমগার্টনার। অস্ট্রিয়ার এই প্রাক্তন সেনাকর্মী ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার বার প্লেন, হেলিকপ্টার, স্কাইস্ক্র্যাপার থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। কিন্তু, এত অল্পেতে যে মন ভরছিল না।
মাথায় ঘুরছিল কী ভাবে জো কিটিংগারের রেকর্ড ভাঙা যায়। ৫২ বছর আগে মার্কিন বায়ুসেনার এই ক্যাপ্টেন ভূপৃষ্টের একতিরিশ কিলোমিটার ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই নজিরকে ছাপিয়ে যেতে ফেলিক্স বমগার্টনার ঠিক করেছেন, মাটির সাঁইতিরিশ কিলোমিটার ওপরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থেকে ঝাঁপ দেবেন তিনি। আবহাওয়া ঠিক থাকলে মঙ্গলবার নিউ মেক্সিকোর রসওয়েলের কাছে মরুভূমির ওপর তাঁকে নিয়ে আকাশে উড়ে যাবে হিলিয়াম ভরা বেলুন। বেলুনে থাকা একটি ক্যাপসুল থেকে ঝাঁপ দেবেন ফেলিক্স। গত পাঁচ বছর ধরে বিপদসঙ্কুল এই আকাশ-ঝাঁপের প্রস্তুতি চালাচ্ছে এনার্জি ড্রিঙ্ক প্রস্তুতকারী এক সংস্থা। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর একাধিক কারণে ফেলিক্সের প্রাণ সংশয় হতে পারে। বেলুন থেকে লাফিয়ে পড়ার পর মাইনাস ৫৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা সহ্য করতে হবে তাঁকে। যার ফলে তাঁর জ্ঞান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। মাটি থেকে ৩৭ কিলোমিটার ওপরে বায়ুচাপ ভূপৃষ্টের মাত্র এক শতাংশ। অক্সিজেন নেই বললেই চলে। অতি নিম্নমাত্রার বায়ুচাপের কারণে ফেলিক্সের রক্তের মধ্যে তৈরি হতে পারে বাতাসের বুদ্বুদ। যার ফলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে রক্ত চলাচল। থেমে যেতে পারে ফুসফুস। ঝাঁপ দেওয়ার পর প্রায় ৩০ সেকেন্ড তাঁর গতি থাকবে শব্দের গতি ঘণ্টায় ১১১০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি। ক্রমশ বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব বাড়লে গতি কমবে। কিন্তু তারপরও প্রায় সাড়ে চার মিনিট ধরে চলবে ফ্রি ফল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামমাত্র বায়ুচাপে শব্দের গতিতে নেমে আসার সময় ফেলিক্সের দেহ সমান্তরাল ভাবে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে থাকবে। যার ফলে তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন তিনি। এইসব বিপদের হাত থেকে বাঁচতে ফেলিক্সের জন্য নভশ্চরদের মতো বিশেষ স্যুট ও হেলমেট তৈরি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বেলুন থেকে ঝাঁপানোর পর মাটি ছুঁতে তাঁর সময় লাগবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। প্রথম পাঁচ মিনিট পর তিনি প্যারাশুট খুলবেন। কিন্তু, জ্ঞান হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যাতে সময়মতো আপনা থেকেই প্যারাশুট খুলে যায় থাকছে সে ব্যবস্থাও। সবকিছু যাতে ঠিকঠাক হয় সে জন্য মহড়া দিতে ইতিমধ্যেই দুবার ১৫ ও ১৮ মাইল ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন `ফিয়ারলেস` ফেলিক্স।  

বৃহত্‍ এই কর্মকাণ্ড সফল করে তুলতে ফেলিক্স বমগার্টনারকে সাহায্য করছেন বর্তমান বিশ্বরেকর্ডের মালিক ৮৪ বছরের  জো কিটিংগার। টিমে রয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরাও।

এই গোটা ঘটনার ওপর নজর রাখছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সরাসরি অংশ না নিলেও মহাকাশযান ও মহাকাশচারীদের পোশাককে আরও উন্নত করার  লক্ষ্যে এখন ফিয়ারলেস ফেলিক্সের দিকে নজর সংস্থার বিজ্ঞানিদের।  
 
  

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।