মন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার উত্তরবঙ্গ পরিবহণ সংস্থার শ্রমিকদের

Update: May 25, 2012 13:14 IST

অবশেষে ৯ দিন পর অনশন প্রত্যাহার করলেন উত্তরবঙ্গ পরিবহণ সংস্থার বালুরঘাট ডিপোর ৬ জন ঠিকা শ্রমিক। প্রশাসন এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবের তরফে আশ্বাস পাওয়ার পরই অনশন প্রত্যাহার করেন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকেরা। যদিও সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। চাকরিতে পূণর্বহালের দাবিতে গত ৯ দিন ধরে অনশন করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। পুলিস শ্রমিকদের হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলেও তাদের কিছুই খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। অনশকনকারীদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছিল। এই পরিস্থিততেই শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রশাসন। আগামী ৪ জুন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দাবিদাওয়া শোনারও আশ্বাস দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। এরপরই বৃহস্পতিবার অনশন প্রত্যাহার করেন শ্রমিকেরা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কোচবিহার থেকে ফ্যাক্স আসে সংস্থার বালুরঘাট ডিপোয়। জানানো হয় বালুরঘাট ডিপোর ঠিকাশ্রমিকরা আর কাজে বহাল থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয় বাম, ডান সবকটি শ্রমিক সংগঠন। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৮৬ দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চলে। একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১৬ মে থেকে আমরণ অনশনে বসেন ছাঁটাই হওয়া ৬ জন ঠিকাশ্রমিক। ডিপোর সামনে অস্থায়ী মঞ্চ বেঁধেই অনশন-আন্দোলন শুরু করেছিলেন তাঁরা।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।