সীমারেখা বরাবর গুলির লড়াই অব্যাহত

Update: January 11, 2013 09:55 IST

মেন্ধার সেক্টরে দুই ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃত্যুর পর নিয়ন্ত্রণরেখার পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল। বৃহস্পতিবার নতুন করে পুঞ্চ সেক্টরে  গুলি চালিয়েছে পাক সেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢোকার মুখে  সমস্ত ভারতীয় ট্রাক আটকে দিয়েছে পাক বাহিনী। গতকালও দুই ভারতীয় সেনার হত্যার দায় স্বীকার করেনি পাকিস্তান। উল্টে ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগকে জোরালো করতে চাইছে ইসলামাবাদ। পাক প্রশাসন এবং পাক নাগরিক, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগী প্রত্যেকেই। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে এমনই মন্তব্য ছিল পাক বিদেশমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের।

কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে গেল ছবিটা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবেশের মুখে এভাবেই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল ভারতীয় ট্রাক।

বৃহস্পতিবার টাট্টা পানি সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে এক পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিকদের এই তথ্য টেক্সট মেসেজ করে পাকিস্তান। তারপরেই বন্ধ করে দেওয়া হয় পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় ট্রাকের প্রবেশ।

এঘটনায় ধাক্কা খেল ভারত-পাক বাণিজ্য চুক্তি।  এর ফলে অবধারিতভাবে ভারত-পাক শান্তিপ্রক্রিয়াও যে প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়াল তা একরকম স্পষ্ট।

অথচ মেন্ধর সেক্টরে ভারতীয় জওয়ান হত্যার ঘটনার পরেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে তত্পর ছিল দিল্লি। ভারত-পাক ভিসা চুক্তি জারি থাকবে বলে বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে ঘোষণা করেন। সন্ধেয় যদিও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে আঘাত আসল পাকিস্তানের তরফে।

মেন্ধর সেক্টরে পাক জওয়ানদের গুলিতে দুই ভারতীয় জওয়ানের হত্যার অভিযোগ মানতে আগেই অস্বীকার করেছিল ইসলামাবাদ। প্রয়োজনে যেকোনও তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব মানার কোনও কারণ নেই বলেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম জানিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধেয় পুঞ্চ সেক্টরে পাক সেনা ফের অস্ত্রসংবরণ লঙ্ঘন করে। ভারতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে গুলি চালায় পাক জওয়ানেরা। কিন্তু আসল ধাক্কাটা এল ইসলামাবেদর তরফে। ভারতীয় ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়। যার জেরে মুম্বই হামলার পরে এই প্রথমবার ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড়াল ভারত-পাক শান্তি প্রক্রিয়া।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।