উত্তরকাশীতে বন্যা, সাহায্যের আবেদন রামকৃষ্ণ মিশনের

Update: August 21, 2012 20:29 IST

ব্যাপক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরকশীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বন্যার কবলে পড়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, গৃহহারা হয়েছেন বহু মানুষ। দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বণ্টনের কাজ করছে রামকৃষ্ণ মিশন। মিশনের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে। 

চলতি মাসের গোড়ায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয় উত্তরকাশী ও চামৌলি। অতিবৃষ্টি, হড়কা বানে কুল ছাপিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পাহাড়ি নদী। বন্যা ও ধসে প্রাণ হারান অনেকে। ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বশান্ত হন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরকাশী জেলায় ত্রাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে, দুর্গত মানুষের জন্য সরকারি সাহায্যের পরিমাণ যথেষ্ট না হওয়ায় বরাবরের মতো এবারও এগিয়ে এসেছে রামকৃষ্ণ মিশন। বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

ত্রাণের কাজে সাধারণ মানুষের কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তাঁরা। নগদে, ডিমান্ড ড্রাফটে বা অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকে রামকৃষ্ণ মিশনের নামে আর্থিক সাহায্য পাঠানো যাবে। অনুদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সঙ্গে দিতে হবে একটি কভারিং লেটার। ডিডি বা চেক, স্পিড পোস্ট অথবা রেজিস্ট্রার্ড মেলে পাঠানোর জন্য মিশনের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে।

সাহায্যের অনুদান পাঠাতে হবে এই ঠিকানায়,
দ্য জেনারেল সেক্রেটারি,
রামকৃষ্ণ মিশন, রিলিফ সেকশন,
পোস্ট অফিস বেলুড় মঠ, হাওড়া - ৭১১২০২

অনলাইতে অনুদান পাঠাতে www.belurmath.org সাইটে লগ ইন করলে যাবতীয় তথ্য পাওয়া হাবে।মিশনের ই-মেল অ্যাড্রেস rkmrelief @ gmail.com-এও ত্রাণ সাহায্য সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করা যাবে। সেইসঙ্গে, বিস্তারিত জানতে ফোন করা যাবে (০৩৩) ২৬৫৪-১১৪৪, ১১৮০, ৫৩৯১, ৯৫৮১, ৯৬৮১, ৫৭০০, ৫৭০১, ৫৭০২, ৫৭০৩, ৮৪৯৪ নম্বর গুলিতে।
(০৩৩) ২৬৫৪-৯৮৮৫ -এই ফ্যাক্স নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।