জামিন না পেয়েও মুক্ত খুনের আসামী

Update: July 3, 2012 23:14 IST

খুনের মামলায় অভিযুক্ত আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ আদালতের বিচারপতিরা জামিন নাকচ করে দিয়েছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা কলকাতা হাই কোর্টের। আর ঘটনা নজরে আসতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ।

সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের জেরে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল পুলিসের কনস্টেবল অসীম দামকে। গত মার্চ মাসে দোলের দিন বিশরপাড়া এলাকার এই ঘটনায় যথেষ্টই তোলপাড় হয়েছিল প্রশাসনিক মহলে। প্রথমে ওই ঘটনার তদন্ত বিধানগর পুলিস কমিশনারেট করলেও পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি। কমিশনারেট এবং সিআইডি মিলিয়ে গ্রেফতার হয় দশজন অভিযুক্ত। তিন জনকে পলাতক উল্লেখ করে সিআইডি ওই ঘটনায় চার্জশিটও পেশ করে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে তার পরেই। গত ২১ জুন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অসীম রায় ও বিচাপতি তফিকউদ্দিনের আদালতে জামিনের আবেদন জমা পড়ে। জেলবন্দি ১০ অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, প্রসেনজিত্ দত্ত ওরফে পঙ্কার তরফ থেকে এই আবেদন জানানো হয়। বিচারপতিরা জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। কিন্তু এরপরেই বিশরপাড়া এলাকায় ঘুরতে দেখা যায় অভিযুক্ত প্রসেনজিত্ ওরফে পঙ্কাকে। সরকারি আইনজীবী বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। মঙ্গলবার বিচারপতি অসীম রায় ও বিচারপতি তফিকউদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ খোঁজ শুরু করেন কীভাবে এই ঘটনা ঘটল। দেখা যায়, বিচারপতিদের এবং আদালতের যাবতীয় তালিকায় জামিন নাকচের বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু যে নির্দেশের ভিত্তিতে প্রসেনজিত দত্তর জামিন হয়েছ, তাতে বিচারপতিদের সই রয়েছে। সেই সইও নকল নয়। শেষ পর্যন্ত সমস্যা মেটাতে বিচাপতিরা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। আগামী সোমবার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তাঁরা।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।