অশান্ত অসমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

Update: July 25, 2012 12:43 IST

অসমে গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩২। আজ রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ফ্ল্যাগ মার্চ করবে সেনাবাহিনীর ১৩টি কলাম। রাজ্যের পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ১,৫০০ আধাসেনা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এই নিয়ে অসমে মোট ২৯ কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কোকরাঝাড়, চিরাং এবং ধুবড়ি জেলায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোকরাঝাড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুট অ্যাট সাইট-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোকরাঝাড়ের রামপুর এবং চপরকাটায় পুলিসের গুলিতে ৪ দাঙ্গাবাজের মৃত্যু হয়েছে। চিরাংয়েও রাতে কার্ফু জারি করা হয়। বঙ্গাইগাঁও এবং উদগুড়ি জেলার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। অবিলম্বে যাতে সংঘর্ষ বন্ধ হয়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও গগৈয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।

অসমের অশান্ত পরিস্থিতির জেরে উত্তর পূর্বাঞ্চল জুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল পরিষেবা। বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দূরপাল্লার বহু ট্রেন। নিউ কোচবিহার স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপ গুয়াহাটি রাজধানী, আপ সরাইঘাট ও আপ সেকেন্দরাবাদ গুয়াহাটি এক্সপ্রেস। আলিপুরদুয়ার স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপ কাঞ্চলজঙ্গা এক্সপ্রেস, আপ ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস এবং আপ সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেস। নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপ নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস, আপ অওধ-অসম এক্সপ্রেস। ধূপগুড়ি স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপ কান্তিরাম এক্সপ্রেস। হাঁসিমারা স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপ কামরূপ এক্সপ্রেস। নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেস, ডাউন ব্রহ্মপুত্র মেল, ডাউন গুয়াহাটি-গয়া এক্সপ্রেস, ডাউন কুখা এক্সপ্রেস এবং ডাউন এসটিপি-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস। গতকালই কোকরাঝাড়ের গোসাইগাঁওয়ে সংঘর্ষকারীরা গুয়াহাটিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসে হামলা চালায়। এতগুলি ট্রেন অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে পড়ায় চরমে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।