মানুষের ভিড়ে গঙ্গাসাগরে আজ এক টুকরো ভারত

Update: January 14, 2013 09:16 IST

গঙ্গা সাগরে আজ মকরস্নান। মানুষের ঢল নেমেছে গঙ্গাসাগরে। পঞ্জিকা মতে আজ দুপুর একটা তেরো মিনিট থেকে মঙ্গলবার দুপুর একটা তেরো মিনিট পর্যন্ত পুণ্যস্নানের যোগ রয়েছে। মাহেন্দ্রযোগে ডুব দেওয়ার অপেক্ষা না করে  পুণ্যস্নান সেরে ফিরে গেছেন অনেকেই।  কুম্ভমেলা এবার থাবা বসাচ্ছে গঙ্গাসাগরের ভিড়ে। অন্যবারের তুলনায় ভিড় খানিকটা পাতলা। কিন্তু তাতেও হারিয়ে যায়নি সাগরমেলার ফি বছরের চিত্র। এবারেও লাখো মানুষের ভিড়ে সাগরে হাজির একটুকরো ভারত।

এরইমধ্যে রবিবার রাতের দিকে আট নম্বর লটের চার নং জেটিতে ট্রলারের ধাক্কা লেগে বিপত্তি বাধে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় জেটির একাংশ। আটকে পড়েন কয়েক হাজার পূণ্যার্থি।

সব তীর্থ বারবার। গঙ্গাসাগর একবার। এ প্রবাদের দিন আজ অতীত। আগে গঙ্গাসাগর পৌঁছতে পুণ্যার্থীদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হত। কিন্তু আজ আর সেদিন নেই। ট্রেন, বাস , জলপথে অনায়াসেই পৌঁছনো যায় গঙ্গাসাগরে।  মকর সংক্রান্তির ভিড় এড়াতে আগেভাগেই গঙ্গাসাগরে স্নান সেরে গেছেন প্রায় চারলক্ষ পুণ্যার্থী।

পুণ্যস্নান সোমবার। সেই পুণ্যস্নানের টানে রবিবার দিনভর অনেকেই এসেছেন মেলা প্রাঙ্গনে। আট নম্বর লট থেকে তিনটি ভেসেল  সাগর প্রাঙ্গনে পুণ্যার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রশাসনের নির্দেশে বিকেল পাঁচটার পর নামখানা থেকে চেনাগুড়ি হয়ে সাগরদ্বীপে ভেসেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চলছে কড়া নজরদারি। সিসিটিভি-র ফুটেজ সাগরদ্বীপের কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি চলে যাচ্ছে মহাকরণে এডিজি আইনশৃঙ্খলার ঘরে।

সাগরদ্বীপের আট নম্বর লট, কচুবেড়িয়া, সাগর মোহনায় নজরদারি চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দশটি স্পিড বোট। রাজ্য পুলিসের ১২টি লঞ্চ নজরদারি করছে। ডুবুরিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আকাশপথেও নজরদারি করছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিকপ্টার।

রবিবার মেলার প্রস্ততি ঘুরে দেখেন জনস্বাস্থ্য কারিগরী মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে দেড় হাজার পুলিসকর্মী। ইতিমধ্যেই ছিনতাইতের চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।