হলদিয়া বন্দরে তৃণমূলের `দাদাগিরি` অব্যাহত

হলদিয়া বন্দরে তৃণমূলের `দাদাগিরি` অব্যাহত

হলদিয়া বন্দরে তৃণমূলের `দাদাগিরি` অব্যাহতহলদিয়া বন্দরে অচলাবস্থা অব্যাহত। বন্দরের বিভিন্ন গেটে অবস্থান শুরু করেছে আইএনটিটিইউসি। এবিজি সংস্থার  কর্মীদের  কাজে যোগ দেওয়া আটকাতে বন্দরের গেটে নজরদারি চলছে। গাড়ি থামিয়েও তল্লাসি চালাচ্ছেন আইএনটিটিইউসি সমর্থকরা। বিকেলে বন্দরের গেটে মিছিলও করেন তাঁরা। সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই অবস্থান আন্দোলন। জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিসের দাবিমতো সাড়ে সতেরো লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছে এবিজি কর্তৃপক্ষ।
হলদিয়া বন্দরে কাজ করার জন্য নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবিজি সংস্থা।

জেলার পুলিস সুপার, জেলাশাসক ও পুলিসকে নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট। নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিসের পক্ষ থেকে সংস্থার কাছে দাবি করা হয় সাড়ে সতেরো লক্ষ টাকা। শুক্রবার সেই টাকা জমা দেয় এবিজি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শুক্রবারই বন্দর গেটে দেখা গেল অন্য ছবি। নিরাপত্তার জন্য পুলিস ক্যাম্প তো দূর অস্ত চোখে পড়েনি একজনও পুলিসকর্মীকে। শুক্রবার সকাল থেকেই বন্দরের বিভিন্ন গেটে  ক্যাম্প করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে আইএনটিটিইউসি। বিভিন্ন এলাকা, এমনকী যানবাহন থামিয়েও চলছে এবিজি কর্মীদের খোঁজ । এসবই সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে চলছে বলে জানিয়েছেন অবস্থানরত আইএনটিটিইউসি সমর্থকরা। 
  
আন্দোলনের নামে হলদিয়ায় সন্ত্রাসের পরিবেশ চলছে বলে অভিযোগ সিপিআইএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠের। এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের বেনিয়মের জেরে বৃহস্পতিবারই হলদিয়া বন্দর ছেড়ে ওড়িশা চলে যায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ। এসটিএক্স সুটিয়ারা নামে ওই জাহাজটি এনটিপিসির ফরাক্কা ও কাহালগাঁ ইউনিটের জন্য চুয়াত্তর হাজার টন কয়লা নিয়ে আসছিল হলদিয়ায়। অভিযোগ, এম এস বার্জের বদলে চারটি ইনল্যান্ড বার্জের সাহায্যে কয়লা নামানোর চেষ্টা করছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। যা বেআইনি। এর পরেই হলদিয়ায় ওই জাহাজটির পণ্য খালাস  বন্ধ করে দেয় জাহাজ মন্ত্রক। ফলে বাধ্য হয়ে ধামড়ার বেসরকারি বন্দরে চলে যায় জাহাজটি। পণ্য খালাস সংক্রান্ত এই অনিয়মের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে জাহাজ মন্ত্রক। প্রশ্ন উঠছে , বন্দর কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কিভাবে এই বার্জ বা ভেসেলগুলি সাগরে গেল ?

First Published: Saturday, October 27, 2012, 21:14


comments powered by Disqus