পুলিসের ভূমিকাকে তিরস্কার হাইকোর্টের, কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Last Updated: Wednesday, December 19, 2012 - 13:57

দিল্লিতে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিসের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আদালত। বাসের মধ্যে তরুণীকে ধর্ষণ এবং তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া, দিল্লি হাইকোর্ট গোটা ঘটনাটি বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সেইমতো দিল্লির নগরপাল নীরজ কুমারের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে আদালত। দু'দিনের মধ্যে নগরপালকে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার দিন কোথায় কোন পুলিসকর্মীরা দায়িত্বে ছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই তরুণী এবং তাঁর সঙ্গী যেন সেরা চিকিত্সা পরিষেবা পান, সে নির্দেশও দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
গণধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লির নগরপাল নীরজ কুমারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে তারা। গোটা ঘটনাটি সরকার কীভাবে দেখছে তা জানতে চেয়ে দুজনকে নোটিস দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে মহিলা সুরক্ষার হাল নিয়েও কৈফিয়ত তলব করেছে তারা। বাসে গণধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাবাসের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মা।
অন্যদিকে, রাস্তায় মহিলাদের নিরাপত্তা সু্নিশ্চিত করতে দিল্লির পুলিসকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আজ দিল্লি পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে। এরপর রাজ্যসভায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এক একনজরে দেখে নেব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সিদ্ধান্তগুলি

  1. দিল্লির রাস্তায় গাড়িতে ঘষা কাচ, কালো কাচ ও পর্দার ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
  2. বাড়ানো হবে সিসিটিভির নজরদারি
  3. অতিরিক্ত ৩৫০টি পুলিসি নজরদারি গাড়ির টহল বাড়ানো হবে
  4. রাজধানীর প্রতিটি বাসরুটকে জিপিএস নজরদারির আওতায় আনা হবে
  5. সমস্ত রুটের বাসে রুটের নাম, বাস মালিকের নাম ও আপদকালীন যোগাযোগের নম্বর লেখা বাধ্যতামূলক করা হল
  6. কোন রুটের কোন বাসে কোন বাসকর্মী নিযুক্ত রয়েছেন সে সম্পর্কেও যাবতীয় তথ্য পরিবহণ দফতরের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

অন্যদিকে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লি বিধানসভাতে আজ বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। আজই নারীবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত।



First Published: Wednesday, December 19, 2012 - 13:57


comments powered by Disqus