ফেরাল হাসপাতাল, পথেই প্রসবের পর মৃত্যু

Update: January 13, 2012 15:54 IST

রাজ্য সরকারি হেল্থ কার্ড থাকা সত্ত্বেও প্রসুতিকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করল দুটি সরকারি হাসপাতাল। রাস্তাতেই যমজ সন্তানের জন্ম দিয়ে মারা গেলেন প্রসূতি।

কলকাতা প্রেস ক্লাবের উল্টো দিকের ফুটপাথে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে থাকতেন উষা দেবী। গতকাল রাতে প্রসব যন্ত্রনা হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চিত্তরঞ্জন সেবাসদন হাসপাতালে। পথেই একটি শিশু সন্তানের জন্ম দেন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেয় চিত্তরঞ্জন সেবাসদন। এই ধরনের হেল্থ কার্ডে ভর্তি নেওয়া যাবে না বলে হাসপাতালের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর উষা দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। সেখানেও ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেয় হয়। ইতিমধ্যেই আরও একটি শিশুর জন্ম দেন উষা দেবী। এর কিছু পরেই মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযোগ, তারপরও শিশু দুটিকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে ভোর পর্যন্ত ফুটপাতেই ঠাঁই হয় দুই সদ্যোজাতর।

যদিও, নজিরবিহীন এই অমানবিকতার অন্যতম অভিযুক্ত হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন সেবাসদনের দাবি, উষা দেবীকে সেখানে নিয়েই যাওয়া হয়নি। উষা দেবীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের নাম জড়ানোর পর তরিঘরি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়ে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক রিপোর্টে একথাই জানিয়েছে সেই কমিটি। আজ সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে দুই সদ্যোজাতকে ভর্তি করা হয়। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দায় সরব হয়েছে সব মহল।








Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।